উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: গ্রেপ্তারি এবং আটক (Detention) নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত কড়া নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Courtroom) পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ব্যক্তিকে আটক বা হেপাজতে নেওয়ার মুহূর্ত থেকেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করাতে হবে। পুলিশ যখন খাতায়-কলমে ‘গ্রেপ্তার’ দেখাচ্ছে, সেই সময় থেকে ২৪ ঘণ্টার হিসাব শুরু করা যাবে না। সংবিধানের মূল সুর বজায় রেখে এই রায়কে স্বাধীনতা রক্ষায় বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ান এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের বেঞ্চ এই রায়দান করে। আদালত সাফ জানিয়েছে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২(২)-এ যা স্পষ্ট বলা আছে, তার বাইরে গিয়ে কৃত্রিম বা মনগড়া ব্যাখ্যার কোনও জায়গা নেই।
রায়ের মূল বিষয়গুলি এক নজরে:
- আটকের সময় থেকেই গণনা: যে মুহূর্ত থেকে ব্যক্তির স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে বা তাঁকে আটক করা হচ্ছে, ঘড়ি ধরতে হবে সেই সময় থেকেই।
- যাত্রার সময় ছাড়: আটকস্থল থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পৌঁছানোর প্রকৃত যাতায়াতের সময়টুকু এই ২৪ ঘণ্টার হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হবে।
- ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব: ধৃতকে আদালতে তোলার পর ম্যাজিস্ট্রেটকে খতিয়ে দেখতে হবে যে স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার সঠিক সময় ও তারিখ নথিতে ঠিকঠাক রেকর্ড করা হয়েছে কি না। নিয়ম ভাঙলে ধৃতকে তৎক্ষণাৎ মুক্তি দিতে হবে।
- রিমান্ড খারিজের ক্ষমতা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করা হলেও, যদি আটক রাখার সময় পরিস্থিতির তুলনায় অযৌক্তিক ও দীর্ঘ মনে হয়, তবে রিমান্ডের আবেদন খারিজ করতে পারেন ম্যাজিস্ট্রেট।
‘সুজিত দাস বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মাদক সংক্রান্ত একটি মামলায় চার অভিযুক্তকে গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টোয় আটক করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তাঁদের আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখায় পরের দিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায়। এরপর তাঁদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয় সেদিনই বিকেল ৪টে ৪৫ মিনিটে।
শীর্ষ আদালত এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে ঘোষণা করে এবং চার অভিযুক্তকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুলিশি হেপাজতে বা আটকের ক্ষেত্রে সংবিধানের নির্দেশ অমান্য করা হলে তা সরাসরি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

