উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সংগঠনই সর্বোপরি। সংগঠনকে পেছনে ফেলে কেবল পারিবারিক বলয়ে বুঁদ হয়ে থাকার দিন শেষ। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রবিবার বিধানসভার জনপ্রতিনিধিদের স্পষ্ট ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে (BJP coordination assembly) তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা ত্যাগ না করলে আগামী পাঁচ বছর বা পরবর্তী নির্বাচনে আর কোনো টিকিট বরাদ্দ করা হবে না। এছাড়া, সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং তৃণমূল স্তরে শক্তি বাড়াতে জনপ্রতিনিধি ও সাংগঠনিক নেতৃত্বকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বেশ কিছু রদবদল আনা হয়েছে। ঠিক তার দু’দিন বাদেই পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসেন সর্বভারতীয় সভাপতি। নিউটাউনের ওই কনভেনশন সেন্টারে দলীয় নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসেন তিনি। প্রথমাংশে দলীয় পদাধিকারীদের সঙ্গে আলোচনা সারার পর দ্বিতীয় দফায় পৃথক বৈঠক করেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে। এই দুই পর্বের বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। উভয়েই নিজ নিজ বক্তব্যে সংগঠন ও প্রশাসনের মধ্যে নিবিড় মেলবন্ধনের ওপর জোর দেন।
যেটুকু জানা গেছে, বিধায়কদের একাংশের কার্যকলাপে বেজায় অসন্তুষ্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিশেষ করে কিছু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা দলীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কেবল নিজেদের পরিবারকে ঘিরেই ব্যস্ত থাকছেন। সূত্রের খবর, রবিবার বিজেপি বিধায়কদের কাছে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, এমনটা হলে পাঁচ বছর পরে আর টিকিট দেওয়া হবে না।” একইসঙ্গে দলের দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসনিক কাজের প্রচার প্রসারের ক্ষেত্রেও এ দিন বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিগত কয়েকমাসে নতুন সরকারের নেওয়া জনমুখী পদক্ষেপগুলো জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দলীয় কর্মীদের আরও বেশি মাত্রায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারের সঙ্গে সংগঠনের সুসমন্বয় সুনিশ্চিত করতে এদিনের এই মেগা বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

