অরূপ দত্ত, কলকাতা: আরএসএস-এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে কি শ্রমিক সংগঠনে স্বতন্ত্র পথ ধরতে চলেছে বিজেপি? এই জল্পনাই শনিবার উসকে উঠল আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি শ্রমিক সংগঠন তৈরি করায় (BJP Commerce Union)। ১৯৮০ সালে বিজেপি প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম দলের নিজস্ব শ্রমিক সংগঠনের সূচনা হল এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে।
কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শনিবার আত্মপ্রকাশ করল বিজেপির প্রথম ট্রেড ইউনিয়ন ‘এনএসসিবিআই এয়ারপোর্ট কনট্রাক্টরস ওয়ার্কার্স মোর্চা’। বিমানবন্দর ছাড়াও রাজ্যের অন্যান্য বিমানবন্দর, ওয়েবেল এবং হরিণঘাটায় এই নতুন সংগঠনের ব্যানারে কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত ৯ জনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের পশ্চিমবঙ্গ শাখার কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পরেও শমীক বলতেন, বিজেপির কোনও শ্রমিক সংগঠন নেই, ছাত্র সংগঠন নেই। সম্প্রতি ডানকুনি সহ রাজ্যের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি ও তোলাবাজি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, বিজেপির কোনও ট্রেড ইউনিয়ন নেই এবং কারখানা থেকে চাঁদা তোলার কালচার নেই। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছিলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ কুকীর্তি করলে যেন সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়।
খোদ রাজ্য সভাপতির সেই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতে বিজেপির নিজস্ব ট্রেড ইউনিয়ন গড়া সংঘ পরিবারে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউনিয়নের চাঁদার জুলুমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই যেন শনিবার সুনীল স্বচ্ছতার সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনার নির্দেশ দিলেন। নতুন ট্রেড ইউনিয়ন তৈরির যুক্তি দিতে গিয়ে শমীক বলেন, নীতিগতভাবে বিজেপি মনে করে সরকারে দল যাওয়ার পর শ্রমিকদের দাবিদাওয়া ও বঞ্চনা নিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে পারবে না শ্রমিক সংগঠন। সে কারণে বিজেপিতে শ্রমিক সংগঠন করা যেত না। কিন্তু এরাজ্যের বিশেষ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ট্রেড ইউনিয়ন শব্দটি আমাদের শ্রমিক সেলের সঙ্গে যুক্ত করার অনুমতি দিয়েছেন।’
বাংলায় সূচনা হলেও আগামীদিনে অন্যান্য রাজ্যে এই সংগঠনের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিজেপির এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এতদিন জনসংঘ বা পরবর্তীকালে বিজেপি তাদের আদর্শগত উৎস রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করে এসেছে। অতীতে বিজেপির নামে ‘ভারতীয় মজদুর সংঘ’ বা বিএমএস সক্রিয় থাকলেও তাতে সংঘের প্রভাবই ছিল প্রধান।
বছরকয়েক আগে প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার বক্তব্য ছিল, বিজেপি এখন অনেক বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলায় সরকার বদলের পর সরাসরি দলের ব্যানারে শ্রমিক সংগঠন তৈরিতে সেই জল্পনা আরও জোরালো হল। অদূরভবিষ্যতে বিজেপি নিজস্ব ছাত্র সংগঠনও গড়বে কি না, এখন সেই প্রশ্ন নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

