উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : কৃত্রিম মেধা বা এআই-এর অভাবনীয় অগ্রগতিতে কি এবার লাগাম পরানোর সময় এসে গিয়েছে? প্রযুক্তির এই অপ্রতিরোধ্য গতি এমন এক বিপজ্জনক বিন্দুতে পৌঁছোতে পারে, যেখানে তা আর মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না—এমন আশঙ্কাই দানা বাঁধছে বিশ্বের তাবড় প্রযুক্তিবিদদের মনে। এআই দুনিয়ার তীব্র প্রতিযোগিতাকে দূরে সরিয়ে রেখে এবার কৃত্রিম মেধার দৌড়ে রাশ টানতে এক প্ল্যাটফর্মে হাত মেলালেন স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক, ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিয়ো আমোদেই।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রবন্ধে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিয়ো আমোদেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এআই যে বেগে এগিয়ে চলেছে, তাতে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় গবেষকদের হাতে আর থাকছে না। ফলস্বরূপ, কৃত্রিম মেধার উন্নয়নের গতি কিছুটা শ্লথ করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি। তাঁর এই ভাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করে ওপেন এআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং ইলন মাস্কও সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন, প্রযুক্তির দুনিয়ায় এখন আরও বেশি সতর্ক ও ধীর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
আমোদেই লিখেছেন, ‘‘এআই মডেলগুলির সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি আমাদের কমাতেই হবে। তাতে অগ্রগতির চাকা সচল থাকলেও, আমরা যে বাড়তি সময় পাব, তা ঝুঁকি প্রশমনের কাজে বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে।’’ এই যুক্তির সমর্থনে ইলন মাস্ক এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘‘দারিয়ো ঠিক কথাই বলছে।’’ আর স্যাম অল্টম্যানও স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের সংস্থায় প্রবেশাধিকার দেওয়ার মতো উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রণহীন এআই যদি অদূর ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের সম্পূর্ণ দখল নিয়ে নেয়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
আইন করে প্রযুক্তির গতি সম্পূর্ণ রোখা হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু গাড়ির বেগে ব্রেক কষে কিংবা রাস্তায় স্পিডব্রেকার দিয়ে যেমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, তেমনই এআই-এর সক্ষমতার গতি যেন তার নিরাপত্তার নিরাপত্তাবেষ্টনীকে ছাড়িয়ে না যায় – সেই বার্তাটাই জোরালোভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছেন ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং দারিয়ো আমোদেই।

