পতিরাম: পতিরাম কলেজে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা আদায় (Fraud) এবং সেই টাকা ফেরত চাইতেই মারধর! এমনই অভিযোগে তৃণমূল পরিচালিত পতিরাম (Patiram) গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পার্থ ঘোষ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অসীম কুণ্ডুকে গ্রেপ্তার করল পতিরাম থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁদের আটক করা হয়। শুক্রবার ধৃতদের বালুরঘাট আদালতে তোলা হলে, আদালত তাদের পাঁচ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে গৌরব কর্মকার নামের পতিরামের এক বাসিন্দা প্রায় ১২ দিন আগে পতিরাম থানায় এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, পতিরাম যামিনী মজুমদার মেমোরিয়াল কলেজে অস্থায়ী কর্মচারীর চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। এই লেনদেনে তৃণমূল ছাত্র নেতা পঙ্কজ রায়-এর সাথে পার্থ ঘোষ ও অসীম কুণ্ডুর নাম উল্লেখ করেন অভিযোগকারী। দীর্ঘদিন কেটে গেলেও চাকরি না হওয়ায় তিনি টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং বোল্লা এলাকার একটি হোটেলে খাওয়ার সময় তাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই মারামারিতে পঙ্কজ রায়ের সাথে মৈনাক সাহা সহ মোট চারজন যুক্ত রয়েছেন বলেও অভিযোগে জানান গৌরব।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের পর বৃহস্পতিবার রাতে পার্থ ঘোষ ও অসীম কুণ্ডুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার আরও দুই অভিযুক্ত পঙ্কজ রায় ও মৈনাক সাহা-সহ মোট চারজন এখনও পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পতিরাম এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি মৃণাল সরকার দাবি করেন, এই গ্রেপ্তার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর অভিযোগ, দুটি ছেলের ব্যক্তিগত বিবাদকে ইচ্ছাকৃতভাবে বড় করে দেখিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন তৃণমূল কর্মীরা।
অন্যদিকে, বিজেপির জেলা যুব মোর্চার সভাপতি শুভ চক্রবর্তী বলেন, চাকরির নামে লক্ষাধিক টাকা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হওয়াই স্বাভাবিক।
এদিকে তৃণমূলের (TMC) একাংশের দাবি, গ্রেপ্তার নয়, পার্থ ঘোষ ও অসীম কুণ্ডু থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তবে পুলিশ এখনও এবিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। ঘটনায় জেলাজুড়েও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের।

