‘নেতাগিরি করতে আসিনি’, টলি ভোটের দ্বিতীয় দিনে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ কে তোপ রূপার

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


মাস পয়লার রবিবাসরীয় সকালে টলিপাড়ায় এক অন্য ছবি। অন্যান্য রবিবারের মতো ছুটির আমেজের বদলে কর্মচঞ্চল স্টুডিওপাড়া। শুটিংয়ের ব্যস্ততা নয়, চলছে গিল্ডের ভোটদান পর্ব। ৩১ অক্টোবর, শনিবার থেকে টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় শুরু হয়েছে ২৩টি গিল্ডের দু’দিন ব্যাপী নির্বাচন। বিভিন্ন গিল্ডের নতুন সভাপতি বেছে নিতেই এই ভোটযুদ্ধ। শনিবার ছিল পাঁচটি গিল্ডের নির্বাচন, আজ ১১ টি গিল্ডের ভোটদান। উপস্থিত রয়েছেন সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ-সহ পাপিয়া অধিকারী, মিঠুন চক্রবর্তী।

‘বিশ্বাসে’ ইতি টেনে পালাবদলের বঙ্গে টলিউডে প্রথম ভোট। ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচনের জন্য ভোট হচ্ছে টলিপাড়ায়। সিনেপাড়ার অচলাবস্থার নিষ্পত্তি করতেই মাস দুয়েক আগে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে টলিউডের ‘নর্দমা সাফ করা’র হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তথ্য় ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী । এবার তাঁর তত্ত্বাবধানেই টলিউডে চলছে দু’দিন ব্যাপী এই নির্বাচন। তৃণমূল জমানায় বারবার টলিউডে ছড়ি ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এতদিন সভাপতি পদটি ছিল মনোনীত। শনিবারের মতো রবিবারও কড়া নিরাপত্তা ও পুলিশি প্রহরার মধ্যে চলছে ভোটগ্রহণ।

আরও পড়ুন:

গিল্ডের ভোটগ্রহণ। নিজস্ব ছবি

টেকনিশিয়ান স্টুডিওর সদস্য ও ভোটারদেরই একমাত্র ভিতরে ঢোকার অনুমতি রয়েছে। কমিশনের তরফে যে নির্দশিকা দেওয়া হয়েছে সেটা মেনেই চলছে ভোটগ্রহণ। গিল্ডের কোনও সদস্য় বা ভোটার একবার ভিতরে ঢুকলে বারবার বাইরে আসার অনুমতিও নেই। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই এত কড়াকড়ি। রবিবার কোন কোন গিল্ডের ভোটদান পর্ব চলছে?সাউন্ড গিল্ড, হেয়ার ড্রেসার গিল্ড, ইলেকট্রিশিয়ান গিল্ড, স্টিল ফটোগ্রাফার গিল্ড, আর্ট ডিরেক্টর গিল্ড-সহ ট্রলি সেটিং টেকনিশিয়ানস গিল্ড, এডিটর গিল্ড, সিনেমাটোগ্রাফার গিল্ড, কারপেনটার্স গিল্ড এবং জুনিয়র আর্টিস্ট গিল্ডে ভোট হচ্ছে।

সুষ্টভাবেই চলছে দ্বিতীয় পর্বের ভোটগ্রহণ।  আজও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, মিঠুন চক্রবর্তীরা কিন্তু, কেউই ভিতরে প্রবেশ করেননি। প্রত্যেকেই ক্যাম্পে বসে রয়েছেন। তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও কেন স্টুডিওর বাইরে চেয়ারে বসে? শনিবার এই প্রশ্নের জবাবে মিঠুন বলেছিলেন, “আমিই বলেছিলাম ভোটার ছাড়া কেউ ভিতরে ঢুকবে না। তাই আমি বাইরে বসে আছি।” রবিবার সেই একই সুর রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের গলাতেও। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, “আমি অ্যাডভাইসরি টিমের সদস্য। মারপিট, গালিগালাজ হচ্ছে কিনা আমি শুধু সেটুকু দেখব। ভিতরে ঢোকার অনুমতি নেই। ভুয়ো কার্ড বানিয়ে গিল্ডের মেম্বার হয়ে নেতাগিরি করতে আসিনি। এবার সিলেকশন নয়, ইলেকশন হচ্ছে।”

রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। নিজস্ব ছবি

‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ যুগের কালো অধ্যায়ের অবসান প্রসঙ্গে রূপার সংযোজন, “বিশ্বাস ব্রাদার্সের সময়ের পরিবর্তন হওয়ারই ছিল। মানুষই এই সরকারকে বেছে নিয়েছেন। তাই মানুষ যা চায় সেটাই হবে। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্র বা আর্ট অ্যন্ড কালচর ফর্ম নিরেপেক্ষভাবে চলবে। ফেডারেশন বা গিল্ডের মাথায় বসে অরাজকতা করার দিন শেষ। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সবাই ভোট দেবে। ঠিক এসআইআরের মতো, যদি কারও নাম বাদ যায় এই গিল্ডগুলো তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করবে।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *