সায়নদীপ ভট্টাচার্য, তুফানগঞ্জ: ভিবি-জি রাম জি প্রকল্পে কড়াকড়ি শুরু হতেই গ্রামগঞ্জে শ্রমিকের দেখা মিলছে না। একসময় একশো দিনের কাজের জন্য যেখানে শ্রমিকদের ভিড় লেগে থাকত, এখন সেখানেই অনেকটাই ফাঁকা ছবি। অভিযোগ, এই প্রকল্পে দিনে অন্তত তিনবার বায়োমেট্রিক (Biometric attendance problem) পরিচয়পর্ব আপলোড করতে হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে পোর্টালে তঁাদের উপস্থিতি স্ক্যান না হওয়ায় কাজ ছেড়ে শ্রমিকদের ফিরে যেতে হচ্ছে। বায়োমেট্রিক তথ্য আপলোড না হলে পারিশ্রমিক মিলবে না। ফলে পরের দিন সরকারি কাজের উপর নির্ভর না করে অন্যত্র দিনমজুরির কাজে তাঁরা চলে যাচ্ছেন। তার উপর কাজের গুণমান কম হলে পারিশ্রমিকও অনেক সময় কমে যায়। এসবের জেরে স্বাভাবিকভাবেই সরকারি কাজে শ্রমিকরা উৎসাহ হারাচ্ছেন। তাঁদের কথায়, এমনিতেই এই কাজের পারিশ্রমিক কম এবং তা নিয়মিতও নয়। অন্যত্র দিনমজুরির কাজ করলে তুলনামূলক বেশি টাকা মেলে। ফলে তাঁরা সরকারি কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
ভিবি-জি রাম জি প্রকল্পে মহিষকুচি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের শালডাঙ্গায় নদীর পাড়বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা সোনারাম মোদক নিয়মিত তিনদিন কাজ করেছেন। সোমবারও কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে মাঠে কাজ শুরু করেন। কিন্তু বায়োমেট্রিক পরিচয়পর্ব আপলোড করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্কের সমস্যা থাকলে পরিস্থিতি খুবই জটিল হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ। বহুবার চেষ্টা করেও উপস্থিতি আপলোড না হওয়ায় তাঁকে শেষমেশ বাড়ি ফিরে যেতে হয়। রামপুরের বাসিন্দা তপন দাসের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটে। সোনারাম বেশ হতাশ হয়ে বললেন, ‘দিনমজুরি করে সংসার চলে। সরকারি কাজে গিয়ে যদি বায়োমেট্রিক পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য আপলোড না হয়, সেই দায় কি আমার? অর্ধেক দিন চলে যাওয়ায় অন্য কোথাও আর কাজ পেলাম না। গোটা দিনটাই আমার মাটি হল। ভেবেছি কাল থেকে অন্য কাজে যাব।’
শুধু বায়োমেট্রিক হাজিরাই নয়, কাজের গুণমানের উপরেও নজরদারি বেড়েছে। নির্ধারিত মাপকাঠির তুলনায় কাজের মান কম হলে পারিশ্রমিকও কমে যেতে পারে বলে অনেকে জানাচ্ছেন। শ্রমিকদের বক্তব্য, দিনভর পরিশ্রমের পর কাজের মানের নিরিখে মজুরি কমে গেলে কাজের কোনও উৎসাহই থাকে না। শ্রমিক পার্বতী সাহার কথায়, ‘এমনিতেই সরকারি প্রকল্পের কাজের পারিশ্রমিক কম এবং তা সবসময় নিয়মিত নয়। তার উপর হাজিরা নিয়ে সমস্যা হলে টাকা পাওয়াটাই অনিশ্চিত হয়ে যায়। অন্য জায়গায় দিনমজুরির কাজ করলে তুলনামূলক বেশি টাকা পাওয়া যায়।’
ভিবি-জি রাম জি প্রকল্পের এক সুপারভাইজারের কথায়, ‘আগে ১০০ দিনের কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ ছিল। তাই শ্রমিকের সংখ্যাও বেশি ছিল। এখন নতুনভাবে শুরু হওয়া প্রকল্পে ফাঁকি দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তাই সরকারি কাজের প্রতি শ্রমিকদের আগ্রহ অনেকটাই কম। তার মধ্যে প্রথমে উপস্থিতি, কাজের ছবি এবং চার ঘণ্টা পর আবার ছবি আপলোড করতে হচ্ছে। কাজের জায়গা থেকেই ছবি আপলোড করতে হবে। ছবি তোলায় সামান্য সমস্যা হলেই পোর্টাল তা গ্রাহ্য করে না।’ নেটওয়ার্ক বা পোর্টালের সমস্যায় বায়োমেট্রিক পরিচয়পর্ব আপলোড না হলে সেই শ্রমিক সেদিনের পারিশ্রমিক থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তিনি জানান। এই সমস্যার সমাধান কী, তা এই মুহূর্তে কারও জানা নেই।

