রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুরের বিন্দোলের (Bindol) ঐতিহ্যবাহী ভৈরবী মন্দিরে এবারের বার্ষিক পুজোয় দীর্ঘদিনের পশুবলি প্রথার অবসান ঘটল। রাখি পূর্ণিমা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বার্ষিক পুজো ও মেলায় শতাধিক বছরের এই প্রথা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করল মন্দির কমিটি।
২ দিন আগে রাজ্যের মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন করেন। প্রায় ৬৯ লক্ষ টাকা খরচ করে মন্দিরটির সংস্কার করা হয়েছে। নবরুপে সজ্জিত হয়ে উঠেছে ভৈরবী মায়ের মন্দির (Bhairabi Temple)।
উল্লেখ্য, এখানে দেবী ভৈরবী বা ভৈরবী কালী রূপে পূজিত হন, যা মূলত মা কালীর একটি রূপ। প্রতিবছর রাখী পূর্ণিমা তিথিকে কেন্দ্র করে এই মন্দিরে বাৎসরিক বিশেষ পূজা ও উৎসবের সূচনা হয়। কষ্টিপাথরের তৈরি প্রাচীন মূর্তি ও মার্তণ্ড ভৈরব মূর্তিকে কেন্দ্র করে গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে বিশেষ পূজা-অর্চনা ও বলিপ্রথা বা মানত পূরণের আচার পালিত হয়ে আসছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই পুজোয় পাঠা ও পায়রা বলির রীতি প্রচলিত ছিল। গত বছরও প্রায় দেড়শো পশু ও পাখি (Animal) বলি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি পশুপ্রেমী সংস্থা ও বিজ্ঞান মঞ্চের নজরে আসতেই তাঁরা মহকুমাশাসককে ভৈরবী মন্দিরে বলি প্রথা বন্ধের জন্য আবেদন জানান।এরপরেই প্রশাসনের তরফে মন্দির কমিটিকে একথা জানাতেই তারা এবছর থেকে পুরোপুরিভাবে পুজোয় বলি প্রথা বন্ধের নির্দেশিকা জারি করে।
জানা গিয়েছে, শতাধিক বছরের বেশি পুরোনো ভৈরবী মন্দিরের পুজো হরিপুরের জমিদাররা চালু করেছিল। আগে দুর্গা পুজোর সময় নবমীতে জাঁকজমকপূর্ণ এই পুজো হতো। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় পুজোর তারিখ পরিবর্তন হতে থাকে। এরই মাঝে বিন্দোলের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা মিলে প্রায় ৫০ বছর আগে রাখি পূর্ণিমার দিনে ভৈরবী মায়ের বার্ষিক পুজো চালু করেন।

