Bengali Language | বাংলা বাধ্যতামূলকে ক্ষোভ পাহাড়ে, কার্সিয়াংয়ে পৃথক জেলার দাবি বিধায়কের     

Bengali Language | বাংলা বাধ্যতামূলকে ক্ষোভ পাহাড়ে, কার্সিয়াংয়ে পৃথক জেলার দাবি বিধায়কের     

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: রাজ্য সরকারের সমস্ত কাজকর্মে বাংলা ভাষার (Bengali Language) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘোষণা করেছেন। আর মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই পাহাড়ে নতুন করে উত্তাপ বাড়ছে। কারণ পাহাড়ে বসবাসকারী সিংহভাগের প্রধান ভাষা হল নেপালি। বাংলা ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে পাহাড়। এদিনও মুখ্যমন্ত্রীর কথায় পাহাড় নিয়ে কোনও উল্লেখ না থাকায় রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

অন্যদিকে, এদিনই কার্সিয়াংয়ের বিধায়ক বিজেপির সোনম লামা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর বিধানসভা ক্ষেত্রকে পৃথক জেলা করার দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘কার্সিয়াং পৃথক জেলা হলে এখানকার উন্নয়নে গতি আসবে।’ প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে পৃথক রাজ্যের দাবি থেকে সরছেন বিজেপি বিধায়ক? এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন সোনম।

দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্টের দাবি, এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর পাহাড় থেকে প্রচুর মানুষ তাঁর কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। রাজুর বক্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্সের বিষয়ে তিনি অবগত। বাংলার পাশাপাশি অন্য আঞ্চলিক ভাষাগুলিতেও সরকারি কাজকর্ম হবে।’ বিধানসভায় সাংবাদিক বৈঠক করে পরিষদীয় বিষয়ক মন্ত্রী শংকর ঘোষও স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলার পাশাপাশি নেপালি সহ অন্য আঞ্চলিক ভাষাকেও সরকারি কাজকর্মে গুরুত্ব সহ ব্যবহার করা হবে।

ভাষা ইস্যুতে পাহাড় বারবার উত্তপ্ত হয়েছে। ২০১৭ সালে ভাষা ইস্যুকে সামনে রেখে হিংসাত্মক আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। পাহাড়বাসীর বরাবরের দাবি, সেখানকার সরকারি কাজকর্ম থেকে শুরু করে স্কুলের পঠনপাঠনে নেপালি ভাষাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কাজে বাংলা বাধ্যতামূলক করার কথা ঘোষণা করতেই পাহাড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার (বিজিপিএম) মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মার কথায়, ‘পাহাড়ে সিংহভাগ মানুষ নেপালি ভাষাভাষী। অথচ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সমস্ত প্রশাসনিক কাজে বাংলাকে বাধ্যতামূলক করেছেন। পাহাড় নিয়ে যে রাজ্যের আলাদা কোনও চিন্তাভাবনা রয়েছে, সেটাও তাঁর কথায় উঠে আসেনি। রাজ্যের এই ঘোষণায় পাহাড়ে ক্ষোভ রয়েছে।’

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং তড়িঘড়ি দলের বৈঠক ডাকেন। বিকেলে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে দার্জিলিং পার্বত্য এলাকা এবং তরাই-ডুয়ার্সে সরকারি কাজকর্মে নেপালি ভাষাকে মান্যতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিমল। তিনি বলেছেন, ‘রাজ্য সরকার এই দাবি মানবে বলে আমরা আশাবাদী।’ ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের আহ্বায়ক অজয় এডওয়ার্ড দার্জিলিংয়ের সাংসদকে চিঠি দিয়ে দ্রুত বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার দাবি করেছেন।

এদিন বিধানসভায় কার্সিয়াংকে জেলা করার দাবি তোলেন বিধায়ক সোনম লামা। তাঁর বক্তব্য, ‘কার্সিয়াংয়ের জনসংখ্যা ১ লক্ষ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। এখানে দুটি পুরসভা, দুটি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে। কার্সিয়াংয়ের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোও অনুন্নত। এখান থেকে প্রতিদিন অন্তত ২০০ রোগীকে ডায়ালিসিসের জন্য শিলিগুড়িতে যেতে হয়। এ ছাড়া সিটি স্ক্যান, এমআরআই, নিউরো, নেফ্রোর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও কার্সিয়াংয়ে নেই।’ পৃথক জেলা হলে সেখানকার মানুষ সব দিক থেকে উপকৃত হবেন বলে সোনম মনে করছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *