Basuniabari Puja Moinaguri | রাজরোষ থেকে নির্বাসন, রাজবাড়ির আদলে পুজো শুরু! ২১৬ বছরে পা দিল ময়নাগুড়ির ঐতিহাসিক বসুনিয়াবাড়ির দুর্গাপুজো

শিক্ষা
Spread the love


অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: কোচবিহার রাজবাড়ির দুর্গাপুজো গোপনে দেখে ফেলাই কাল হয়েছিল ধনবর বসুনিয়ার (Basuniabari Puja Moinaguri)। রাজরোষে রাজ্য ছাড়তে হয় তাঁকে। আশ্রয় নেন তৎকালীন চাপগড় পরগনায়। ভাগ্য ফিরেছিল নিজের পরিশ্রমে, ধনবর হয়ে ওঠেন বিত্তবান। তবে রাজবাড়ির বড়দেবীর সেই রূপ তিনি ভুলতে পারেননি। অবশেষে ১৮১০ সালে আমগুড়িতে নিজের ভিটেতেই শুরু করলেন দুর্গাপুজো। কোচবিহার রাজপরিবারের বড়দেবীর আদলেই গড়ে উঠল প্রতিমা। ডুয়ার্সের অন্যতম প্রাচীন ময়নাগুড়ি আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সেই বসুনিয়াবাড়ির পুজোই এবার পা দিল ২১৬ বছরে।

জন্মাষ্টমীর দিন পুজো দিয়ে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হওয়াই এই বাড়ির দুই শতকের রীতি। তার একটুও বদল হয়নি দুই শতাব্দীতে। শুক্রবার রীতি মেনে পুজো দিয়ে শুরু হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। জন্মাষ্টমীর পরদিন রাজবংশী সমাজের প্রথা মেনে শিশু-কিশোর ও তরুণেরা শামিল হন চিরাচরিত ‘দধিকাদো’ উৎসবে। জাঁকজমকহীন এই উৎসবকে ঘিরে মেতে ওঠে গোটা গ্রাম।

এখানে দুর্গা পূজিত হন ‘দেবী ঠাকুরানি’ নামে। তাঁর রূপ যেন তিস্তাপারের সাধারণ রাজবংশী ঘরের বধূ। রক্তিম বর্ণের প্রতিমার মুখের আদলে রয়েছে মঙ্গোলীয় জনজাতির স্পষ্ট ছোঁয়া। চাষিঘরের মেয়ে হওয়ায় নেই অলংকারের বাহুল্য। পরনে গোড়ালির উপর পর্যন্ত আটপৌরে শাড়ি।

শুরুটা অবশ্য সহজ ছিল না। জঙ্গলঘেরা চাপগড়ে তখন মৃৎশিল্পী, পুরোহিত বা ঢাকি—কিছুই মিলত না। তৎকালীন পূর্ববঙ্গের রংপুর থেকে ঘোড়ার গাড়িতে চেপে আসত প্রতিমা। পরবর্তীতে ধনবরবাবুর ছেলে রংপুর থেকে মৃৎশিল্পী পরিবারকে এনে আমগুড়িতে নিষ্কর জমি দিয়ে স্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। একইভাবে অসম থেকে এনে বসতি গড়ার জমি দেওয়া হয় পুরোহিত ও ঢাকি পরিবারকেও।

এদিন বসুনিয়াবাড়ির ঠাকুরদালানের বাইরে প্রতিমায় একমেটে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ শুরু করেন প্রবীণ মৃৎশিল্পী শ্রীমন্ত রায়। তিনি বলেন, ‘আগে বাবা এই প্রতিমা তৈরি করতেন। বিগত ৩০ বছর ধরে আমি গড়ছি। এই প্রতিমার গড়ন একেবারেই আলাদা, তাই কাজে খুব সতর্ক থাকতে হয়।’

কয়েক বছর ধরে পুজোর মূল দায়িত্বে ছিলেন পরিবারের কর্তা সুনীল বসুনিয়া। সম্প্রতি তাঁর প্রয়াণের পর স্ত্রী চঞ্চলা বসুনিয়া, দেওর দীপু ও তপন বসুনিয়া পুজোর হাল ধরেছেন। এগিয়ে এসেছে চতুর্থ প্রজন্মও। ভাইপো দুলাল ও রোমিওরা এখন পুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। চঞ্চলা জানান, জন্মাষ্টমীতে নিয়ম মেনে পুজো হয়েছে, শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। দুলালের কথায়, ‘কোনও আড়ম্বর নয়, নিষ্ঠাভরে পুজো করাই আমাদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। আর গোটা গ্রামই এই পুজোয় আমাদের পরিবার।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *