Gangarampur | থানার জমি দখল করে প্রাসাদ! কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপে গঙ্গারামপুরে তৃণমূল নেতার বাড়ি উচ্ছেদ

Gangarampur | থানার জমি দখল করে প্রাসাদ! কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপে গঙ্গারামপুরে তৃণমূল নেতার বাড়ি উচ্ছেদ

শিক্ষা
Spread the love


রাজু হালদার, গঙ্গারামপুর: গঙ্গারামপুর (Gangarampur) শহরের বড়বাজার সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে গঙ্গারামপুর থানা (Gangarampur Police Station)। সেই থানার জমি দখল করে বাড়ি তৈরি করেছিলেন এক তৃণমূল নেতা। সোমবার সেই বাড়ি খালি করে দিল পুলিশ। এদিকে, বাবু চৌধুরী নামে সেই তৃণমূল নেতা বর্তমানে অন্য একটি মামলায় জেলে রয়েছেন। এদিন বাবুর পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে সেই বাড়ি খালি করা হয়। তবে থানার জমি দখলের প্রশ্নই যদি ওঠে, তাহলে তো তাতে নাম জড়াবে বাবুর বাড়ির আশপাশে থাকা একাধিক দোকানদার-ব্যবসায়ীরও। সেসব দোকানও কি উচ্ছেদ করা হবে? জবাব দেয়নি পুলিশ। বেছে বেছে কেবল তৃণমূল নেতার বাড়ি খালি করা নিয়ে তাই চর্চা শুরু হয়েছে গঙ্গারামপুরের রাজনৈতিক মহলে।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলা পরিষদের সদস্য তথা স্থানীয় তৃণমূল (TMC) নেতা মৃণাল সরকার। তিনি বলেন, ‘কেউ অবৈধভাবে যদি কোনওকিছু জবরদখল করে থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। বাকি যারা অবৈধভাবে জবরদখল করে আছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে একইরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। মূলত পুরসভা থেকে অবৈধ নির্মাণের তালিকা গ্রহণ করে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সেইসঙ্গে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ দেওয়া উচিত।’

আবার এবিষয়ে গঙ্গারামপুরের বিধায়ক, বিজেপি (BJP) নেতা সত্যেন্দ্রনাথ রায় সতর্ক মন্তব্য করেছেন। কোনওরকম রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জমি দখল করে নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আর কেউ জবরদখল করে থাকলে বিষয়টি প্রশাসন দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

এদিন বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ সেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। কোনও বুলডোজার ছিল না। ঘটনাস্থলে ছিলেন পুলিশের দুজন আধিকারিক ও কয়েকজন পুলিশকর্মী। বাবুর পরিবারের এক সদস্য বাড়ির মালপত্র একটি পণ্যবাহী গাড়িতে চাপিয়ে নিয়ে যান। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি। মুখ খোলেননি কোনও পুলিশকর্তাও। আধ ঘণ্টার মধ্যেই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে গিয়েছিল।

অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বাড়ি খালি হতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সংলগ্ন এলাকার দোকানদারদের মধ্যে। আগামীদিনে প্রশাসনিক কোপ তাঁদের উপরেও পড়তে পারে বলে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছেন। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলছিলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই থানার সামনে দোকান করে রয়েছি। এই ঘটনার পর আমাদের ওপরে যদি কোপ নেমে আসে, আমরা চরম সমস্যার সম্মুখীন হব। পরিবার ভেসে যাবে।’

গঙ্গারামপুর থানা সংলগ্ন এলাকায় এই বাড়ি ও দোকানপাট কিন্তু তৃণমূল আমলে গড়ে উঠেছে, তা নয়। আরও বহু আগে থেকে এই দোকানপাট রয়েছে। আগে সেগুলি থেকে থানা ভাড়া আদায় করত বলে ব্যবসায়ীরাই জানিয়েছেন। বর্তমানে সেই ভাড়া আদায় কেন বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেটা কেউ বলতে পারছেন না। পুলিশও কিছু বলছে না। পুলিশ খালি জানিয়েছে, তাদের সন্দেহ হয়েছিল যে সেই তৃণমূল নেতা বাবুর বাড়ি থানার জমি দখল করে বানানো হয়েছে। সেইমতো তারা জমির মাপজোখ করে। তারপর আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালত ২৫ মে-র মধ্যে সেই জমি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেয়। সেইমতো আজই ছিল শেষ দিন। তাই ওই অভিযান চালানো হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *