প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ছোট বয়সেই মনে বাসা বেঁধেছিল দেশের সেবা করার স্বপ্ন। আর সেই জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পাশাপাশি অনেক ত্যাগ শিকারও করতে হয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের (Bardhaman) গুসকরার যুবক চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবুও হার না মানার শপথ নিয়ে সমস্ত প্রতিকুলতাকে পিছনে ফেলে তিনি তাঁর স্বপ্নপূরণের লক্ষে এগিয়ে চলেন। ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি ইণ্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি (IMA)-তে নাম লেখান। সেখানে কঠিন প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে ২৮ বছর বয়সেই চিরঞ্জিত অর্জন করেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট পদ। এখন তিনি কাশ্মীরের পুঞ্জ সেক্টরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। গ্রামের যুবকের এমন সামল্যে তাই উচ্ছ্বসিত গুসকরার বাসিন্দারা।
গুসকরার (Guskara) ধারাপাড়ায় বাড়ি চিরঞ্জিতের। তাঁর বাবা উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় একটি কোল্ড স্টোরেজে জেনারেটর অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। মা বকুলদেবী সাধারণ গৃহবধূ। চিরঞ্জিতরা এক ভাই এক বোন। বাবা মায়ের কথা অনুযায়ী, চিরঞ্জিত ছোট বয়স থেকেই সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্বপ্ন দেখত। সেই স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ হিসেবে ২০১৫ সালে দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত সেনাবাহিনীর র্যালিতে অংশ নিয়ে সিপাহি পদে যোগ দেন চিরঞ্জিত। সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় অফিসারদের কাজকর্ম কাছ থেকে দেখার পর চিরঞ্জিত সেনাবাহিনীতে যাওয়ার সংকল্প নিয়ে নেন। তারপর থেকে তিনি তাঁর ডিউটি সেরে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া শুরু করেন। দুবার ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২১ সালে তৃতীয় প্রচেষ্টায় চিরঞ্জিত ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হন। এরপর আইএমএ-র কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে চিরঞ্জিত এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট পদে কমিশনপ্রাপ্ত হয়েছেন। চিরঞ্জিতের এই সাফল্যে গর্বিত তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকার মানুষ। অনেকেই মনে করছেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব,তার উজ্জ্বল উদাহরণ চিরঞ্জিত ব্যন্দ্যোপাধ্যায়।
ভারতের সেনাবাহিনীর উচ্চপদ অর্জনের ব্যাপারে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রকৃত আর্থেই যেন গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রখে চলেছে। ইতিপূর্বে জেলার ভাতাড় ব্লকের নাসিকগ্রামের বাসিন্দা সঞ্জীব রায় ‘এনডিএ’ পাশ করে ভারতীয় সেনা বাহিনীতে মেজর পদে উন্নীত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের মুম্বইয়ের তাজ হোটেলে সন্ত্রাসবাদী হামলার সময় তিনি মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। উন্নিকৃষ্ণন সন্ত্রাসবাদী হামলায় মারা যাওয়ার পর সঞ্জীব’ই জঙ্গি আজমল কাসভকে ধরাশায়ী করে সফল ভাবে তাজ অপারেশন শেষ করেছিলেন। এবার সেই পূর্ব বর্ধমান জেলার নাম উজ্বল করলেন চিরঞ্জিত ব্যন্দ্যোপাধ্যায়।

