সাগরপাড়া থানার ওসি’র চেয়ারে বসে রয়েছেন রাজ্যের এক মন্ত্রী! সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া থানার এমনই একটি ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এমনকী তৃণমূলের তরফেও ওই ছবি পোস্ট করে বিজেপি সরকারকে আক্রমণ শানায় তৃণমূল। বিতর্ক তৈরি হতেই এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন রাজ্যের গণশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দপ্তরের মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। ফাঁস করলেন তৃণমূলের মিথ্যাচার!
মন্ত্রী বলেন, ”যারা বলছেন আমি ওসি’র চেয়ারে বসেছি, তাদের প্রমাণ করতে হবে যে ওটা ওসি’র চেয়ার ছিল। নতুবা যতজন ওই পোস্ট করেছেন, ততজনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে। শুধু আমার পক্ষ থেকে নয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, গত ১৭ জুন মন্ত্রী গৌরী শংকর ঘোষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ পরিদর্শনে সাগরপাড়ায় গিয়েছিলেন। শিবিরে যাওয়ার আগে তিনি সাগরপাড়া থানায় গিয়েছিলেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, থানার ওসি’র টেবিলের মাঝখানে থাকা চেয়ারে মন্ত্রী বসে রয়েছেন। তাঁর পাশে বসে রয়েছেন সাগরপাড়া থানার ওসি রাকেশ কুমার বিশ্বাস এবং সামনে বসে রয়েছেন বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সৌমেন মণ্ডল। ঘটনার তিন দিন পর শুক্রবার রাত থেকে ছবিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে। এই প্রসঙ্গে জলঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক বাবর আলি বলেন, “প্রত্যেকটি পদের নিজস্ব শিষ্টাচার রয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন মন্ত্রীর সেই শিষ্টাচার মেনে চলা উচিত। থানার প্রধান হলেন ওসি। তাঁর জন্য নির্দিষ্ট চেয়ার থাকে। সাধারণত বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন আধিকারিক ছাড়া অন্য কারও সেই চেয়ারে বসার রীতি নেই। মন্ত্রী থানায় গেলে ওসি সম্মান জানাতে পারেন, কিন্তু তাঁর চেয়ার ছেড়ে দেওয়া এবং সেখানে মন্ত্রীর বসা শোভনীয় নয় বলেই আমার মনে হয়। তবে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, সেটা মন্ত্রী মহাশয়ই বলতে পারবেন।”

এরপরেই এই বিষয়ে মুখ খোলেন মন্ত্রী গৌরী শংকর ঘোষ। তিনি বলেন, “যারা বলছেন আমি ওসি’র চেয়ারে বসেছি, তাদের প্রমাণ করতে হবে যে ওটা ওসি’র চেয়ার ছিল। নতুবা যতজন ওই পোস্ট করেছেন, ততজনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে। শুধু আমার পক্ষ থেকে নয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “ওটা ওসি’র চেয়ার ছিল না। আমি থানায় গেলে আমার জন্য পৃথক একটি চেয়ার এনে দেওয়া হয়েছিল। আমি যতগুলি থানা ও ব্লক অফিসে গিয়েছি, সব জায়গাতেই পৃথক চেয়ার দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া আমরা বিজেপি করি, আমাদের ন্যূনতম জ্ঞানবুদ্ধি রয়েছে কোথায় বসতে হয় আর কোথায় বসতে হয় না।” শুধু তাই নয়, বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, “যারা এসব মিথ্যা খবর রটাচ্ছে, তারা কিছুদিনের মধ্যেই উপযুক্ত জবাব পেয়ে যাবেন।”
অন্যদিকে ছবি নিয়ে চলা বিতর্ক উড়িয়ে দিয়েছে সাগরপাড়া থানাও। থানার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মন্ত্রী ওসি’র নির্দিষ্ট চেয়ারে বসেননি। ওসি নিজের চেয়ার কিছুটা পাশে সরিয়ে নিয়ে অতিথিদের জন্য রাখা একটি চেয়ার টেবিলের সামনে এনে দিয়েছিলেন। মন্ত্রী সেই চেয়ারেই বসেছিলেন। ছবির কোন বা অবস্থানের কারণে ভুল ধারণা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলেও দাবি পুলিশের।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর

