উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: গরমে শরীর আর্দ্র ও সুস্থ রাখতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার। তরমুজে থাকা ৯২ শতাংশ জলীয় উপাদান, ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান ওজন কমানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে আমরা সাধারণত তরমুজ খেয়ে এর বীজগুলো ফেলে দিই (Watermelon Seeds)। অথচ, পুষ্টিবিদদের মতে, এই বীজের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।
তরমুজের বীজের পুষ্টিগুণ
পুষ্টিগুণে ঠাসা তরমুজের বীজ একাধিক শারীরিক সমস্যা দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে:
ম্যাগনেশিয়াম: শরীরের বিপাকীয় কার্যকলাপ বা মেটাবলিজম স্বাভাবিক রাখে।
প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: এটি কম ক্যালোরিযুক্ত প্রোটিনের চমৎকার উৎস। এর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
জিঙ্ক ও আয়রন: জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও হজমশক্তি বাড়ায় এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা উন্নত করে। অন্যদিকে, আয়রন লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে।
কোন কোন রোগে এটি বেশি উপকারী?
ত্বক ও চুলের যত্ন: ত্বক মসৃণ করতে, উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং চুলের গোড়া শক্ত করে চুল পড়া কমাতে এই বীজ দারুণ কার্যকর।
হৃদরোগ: এই বীজ রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগীদের জন্য এটি দারুণ উপকারী।
ডায়াবিটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে তরমুজের বীজ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। তাই চিকিৎসকরা ডায়াবেটিক রোগীদের এটি খাওয়ার পরামর্শ দেন।
সংক্রমণ ও ক্লান্তি: যাঁরা ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা মরসুমি সংক্রমণে ভোগেন, তাঁদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এটি সাহায্য করে।
কীভাবে খাবেন?
তরমুজ খাওয়ার সময় বীজগুলো আলাদা করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। এরপর শুকনো তাওয়ায় হালকা ভেজে এয়ারটাইট কৌটোয় রেখে দিন। এছাড়া চাইলে বাজার থেকে প্যাকেটজাত বীজ কিনেও নিয়মিত ডায়েটে রাখতে পারেন। অবহেলায় ফেলে না দিয়ে আজ থেকেই তরমুজের বীজ খাওয়া শুরু করুন।

