প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: এক ব্যক্তির কাছে ‘তোলা’ হিসাবে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন তৃণমূলের ২ নেতা। কিন্তু সেই টাকা না পেয়ে ওই ব্যক্তিকে মারধোর করার পাশাপাশি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন সেই দুজন। ধৃত ২ তৃণমূল নেতার নাম তপন মালিক এবং শেখ মিন্টু। ধৃতদের মধ্যে তপনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের (Bardhaman) জামালপুর থানার অন্তর্গত জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চলের শিয়ালী গ্রামে। শেখ মিন্টুও একই অঞ্চলের অমরপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। আক্রান্ত উত্তম পানের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জামালপুর থানার পুলিশ শনিবার রাতে এই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। সুনির্দিষ্ট ধারার মামলা রুজু করে পুলিশ এই দুই ধৃতকে রবিবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে। বিচারক ধৃত দু’জনের শর্ত সাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত উত্তম পান জামালপুরের (Jamalpur) জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চলের শিয়ালী গ্রামের বাসিন্দা। চাষবাস করার পাশাপাশি তিনি ছোটখাটো ব্যবসাও করেন। তাঁর উপর হওয়া আক্রমণের কথা জানিয়ে গত ১৬ মে তিনি জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশকে তিনি জানান, গত ১৬ মে সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি শিয়ালী গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন এলাকার দাপুটে তৃণমূল (TMC) নেতা তপন মালিক এবং শেখ মিন্টু সহ আরো পাঁচজন তৃণমূল নেতা কর্মী দলবল নিয়ে তাঁর পথ আটকায় এবং ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনা প্রসঙ্গে উত্তম পান জানান, তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ করতেই বাঁশ ও লাঠি দিয়ে তাঁকে বেপরোয়া মারধোর করে অভিযুক্তরা। প্রাণে বাঁচতে তিনি চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন।এরপর কোনো প্রকারে নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে জামালপুর হাসপাতালে পৌছান তিনি। সেখানে চিকিৎসা করিয়ে তিনি গোটা ঘটনা সবিস্তার উল্লেখ করে জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অপরদিকে অন্য একটি ঘটনা প্রসঙ্গে এদিন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোট ৯ টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৯ রাউণ্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
