মুরতুজ আলম, সামসী: টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলস্তর বেড়েছে মহানন্দা নদীতে (Mahananda river)। আর সেই জলস্রোতের চাপে ভেঙে পড়েছে চাঁচল-২ ব্লকের চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার খানপুর ঘাটের (Khanpur-ghat) বাঁশের সাঁকোর একাংশ (Damaged-bridge)। নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা এই সাঁকোটি, ফলে চরম ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সাঁকোর ওপর দিয়েই পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা এমাদুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টির জেরে নদীর জল অনেকটাই বেড়ে যায়। জলের প্রবল চাপে রবিবার সকালে বাঁশের পাইলিং ভেঙে সাঁকোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নদীর দুই পাড়ের অন্তত ৮ থেকে ১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত কার্যত ব্যাহত হয়েছে। তা সত্ত্বেও নিত্যপ্রয়োজনের তাগিদে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ভাঙা সাঁকো দিয়েই পারাপার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারেক বলেন, “প্রতিদিন বহু মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। সাঁকোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার।”
উল্লেখ্য, মালতীপুর বিধানসভা এলাকার চাঁচল-২ ব্লকের চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের খানপুর ঘাটে মহানন্দা নদীর ওপর একটি পাকা সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয় আব্দুর রশিদের অভিযোগ, সুখা মরসুমে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো এবং বর্ষাকালে ছোট নৌকাই ভরসা। এতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে আশপাশের বহু গ্রামের মানুষকে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিডিও, জেলাশাসক, বিধায়ক থেকে সাংসদ-সকলকেই বহুবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ভোটের সময় শুধু প্রতিশ্রুতি মেলে, পরে আর কাউকে দেখা যায় না।”
স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান জানান, সেতুর অভাবে বাজার, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজে যাতায়াতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতেও চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।তাই দ্রুত খানপুর ঘাটে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি তুলেছেন এলাকার আপামর মানুষ।
