Cooch Behar | স্মৃতিরোমন্থনেই আনন্দ ওঁদের

Cooch Behar | স্মৃতিরোমন্থনেই আনন্দ ওঁদের

শিক্ষা
Spread the love


চ্যাংরাবান্ধা: যম শুনলেই আঁতকে ওঠা। কিন্তু যমের সঙ্গে যমুনা প্রসঙ্গে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার স্মৃতিচারণা। ‘যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা’, শুরু হতে চলেছে ঘরে ঘরে। মিষ্টিমুখ, আশীর্বাদ এবং উপহার, বাঙালি মাতোয়ারা আরও এক পার্বণে। কিন্তু মন খারাপের পাল্লাও ভারী হয়েছে সময়ের সঙ্গে। দাদা-ভাই থেকেও, অনেক বোন-দিদি যে ভাইফোঁটার বাইরে। এমন অনেকেই আছেন, যাঁদের কর্মক্ষেত্রে নিজেদের দায়িত্ব পালনের ফাঁকে এমন উৎসব উদযাপনের অবকাশ মেলে না। ভাঙা মনে কথোপকথনে শুভেচ্ছা বিনিময়, স্মৃতিচারণায় ফিরে আসে তাঁদের ভাইফোঁটা।

‘ভাইফোঁটার আগে থেকেই লিস্ট তৈরি করে রাখত, কী কী লাগবে তার লম্বা তালিকা আমাদের দুই বোনকে ধরিয়ে দিত ভাই। পঞ্জাবে সীমান্ত রক্ষীবাহিনীতে কর্মরত ভাই সুসঞ্জিত এখন কত শান্ত, এখন আর লিস্ট তৈরি করে না’, ভাইফোঁটার ২৪ ঘণ্টা আগে কথাগুলি যখন বলছিলেন চ্যাংরাবান্ধার বাসিন্দা আইসিডিএস কর্মী সান্ত্বনা সাহা বিশ্বাস, তখন তাঁর চোখের কোণ ছলছল। তাঁর মতো ভাইফোঁটার দিন চোখের কোণে জল জমবে অনেক ভাই বা বোনের। কিন্তু তাঁরা জানেন, কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আবেগ, আবদার খাটে না। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ভরসা হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে। যেমন, মেখলিগঞ্জ মহকুমার নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলানো এসডিপিও আশিস পি সুব্বা বলছিলেন, ‘এখন পরিবারের সঙ্গে উৎসব পালন হয় ভার্চুয়ালি। প্রত্যেক বছর ভাইটিকার দিন দুই দিদি ভিডিও কল করে আশীর্বাদ দেন।’ তিনি জানালেন, একটা সময় দার্জিলিংয়ের বাড়িতে ভাইটিকাকে কেন্দ্র করে এলাহি কাণ্ড হত। সকলের পছন্দমতো রান্না হত, উজ্জ্বল হয়ে উঠত মায়ের মুখ। আশিসের স্মৃতিচারণা, ‘ভাইবোনদের মধ্যে যেহেতু আমি সবচেয়ে ছোট ছিলাম, তাই আবদারটাও আমার সবচেয়ে বেশি ছিল। দুই দিদির হাতের ক্ষীর না খেলে আমি সন্তুষ্ট হতাম না। দুই দিদির জন্য উপহার কিনতে ভুল করলে আমার আর রক্ষা থাকত না। পুলিশে যোগ দেওয়ার পর উৎসব বলে আমাদের কিছু অবশিষ্ট নেই এখন।’ শুধু তিনি কেন, এমন হাজারো পুলিশকর্মী রয়েছেন, যাঁরা ভাইফোঁটা থেকে দূরে থেকে ভাইবোনদের রক্ষায় ব্রত।

কালীপুজো উপলক্ষ্যে চ্যাংরাবান্ধায় রেস্তোরাঁ তৈরি করেছেন শিলিগুড়ির দীপা পাল। সন্ধ্যা থেকে ভিড় লেগেই রয়েছে তাঁর খাবারের দোকানে। ভিড়ের মধ্যে ক্রেতা সামলাতে ব্যস্ত থাকলেও ভাইফোঁটার প্রসঙ্গ উঠতেই চোখের কোণটা চিকচিক করে উঠল দীপার। তিনি বললেন, ‘শিলিগুড়ির বাড়িতে আমার ছোট দুই ভাই অপেক্ষা করে থাকে ফোঁটার জন্য। রেস্তোরাঁর ব্যবসা নিয়ে নানা জায়গায় ছুটতে হয়। সেজন্য আমার এখন আর নিয়মিত ফোঁটা দেওয়া হয় না। এখন চ্যাংরাবান্ধায় রয়েছি। এখান থেকে বীরপাড়ায় ছটপুজোর মেলায় যাব। ভাইরা কষ্ট পায় জানি, আমারও কষ্ট হয়। কিন্তু কাজ না করলে পেট চলবে কী করে?’

The submit Cooch Behar | স্মৃতিরোমন্থনেই আনন্দ ওঁদের appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *