বর্ধমান: স্বামীর নৃশংস হামলায় ডান হাতের কব্জি হারিয়েও হার মানেননি ‘সেবিকা’ রেণু! বাঁ হাতে লেখা শিখে তিনি এবার তাঁর নিজের জীবন সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে লিখে ফেললেন কাব্যগ্রন্থ। রবিবার বর্ধমান (Bardhaman) জেলা গ্রন্থাগারে আত্মপ্রকাশ করল সংগ্রামী নারী রেণু খাতুনের (Renu Khatun) রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘নিসর্গে মিশে যাই’।
এদিন নিজের হাতে লেখা বই প্রকাশের পর রেণু তাঁর বাবা আজিজুল শেখের হাতে প্রথম কপি তুলে দিয়ে তাঁর আশীর্বাদ নেন। আবেগঘন মুহূর্তে তিনি জানান, বহুদিনের স্বপ্ন ছিল নিজের ভাবনা, অনুভূতি ও লেখাগুলিকে দুই মলাটের মধ্যে বন্দি করার। সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
রেণু খাতুন পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের (Ketugram) চিনিসপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০২২ সালের ৪ জুন সরকারি নার্সিং চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার পর ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর ডান হাতের কব্জি কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্বামী শের মহম্মদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রেণু চাকরি করে স্বনির্ভর হয়ে উঠবেন— এই আশঙ্কা থেকেই ওই নৃশংস হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে এবং মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়।
হাত হারিয়েও ভেঙে পড়েননি রেণু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তাঁর কৃত্রিম হাতের ব্যবস্থা করা হয়। পরে তিনি বর্ধমান মেডিকেল কলেজের নার্সিং ট্রেনিং স্কুলে কাজে যোগ দেন। পাশাপাশি বাঁ হাতে লেখা শেখেন এবং ধীরে ধীরে নিজের মনের কথা কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করেন। এই প্রসঙ্গে রেণু জানান, ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। জীবনের কঠিনতম সময় তাঁকে থামাতে পারেনি। বরং সেই লড়াই তাঁকে নতুন করে বাঁচতে, লিখতে এবং অন্যদের অনুপ্রেরণা দিতে শিখিয়েছে।
এক সময় যাঁর জীবন থমকে গিয়েছিল নৃশংস হামলার অভিঘাতে, আজ সেই রেণু খাতুনের কলমেই ফুটে উঠছে জীবন, প্রকৃতি এবং অদম্য লড়াইয়ের গল্প। আজ তাঁর এই প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রকাশ শুধু সাহিত্যচর্চার সূচনা নয় বরং অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য নজির হয়ে রইল।

