বর্ধমান: বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে চাল ভেঙে ঢুকেছিল চোরের দল। কিন্তু ঘরের জিনিসপত্র হাতানোর আগে তাদের প্রথম নজর পড়েছিল গৃহস্থের ফ্রিজের ওপর! আলমারি ভেঙে ১৪ ভরি সোনা ও নগদ টাকা লুঠ করার আগে ফ্রিজে থাকা আপেল ও চকোলেট আয়েশ করে খেয়ে যাওয়ার এক অদ্ভুত ও দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে গেল পূর্ব বর্ধমানের (Bardhaman) পূর্বস্থলী থানার নিমদহ গ্রামে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গেছে, রবিবার দুপুরে নিমদহ গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণা দাস বৈরাগ্য তাঁর স্বামীর অনুপস্থিতিতে বাড়ির দরজায় তালা দিয়ে বাপের বাড়ি বেড়াতে যান। একই দিনে তাঁর ভাসুরের পরিবারও বাড়িতে ছিলেন না। এই ফাঁকা বাড়ির সুযোগটাই নেয় চোরেরা।
কৃষ্ণা দেবীর অভিযোগ, চোরেরা চিলেকোঠার চাল ভেঙে ঘরের ভিতর ঢোকে। এরপর শাবল দিয়ে স্টিলের আলমারি ভেঙে প্রায় ১২ ভরি সোনার গয়না ও নগদ এক লক্ষ টাকা চম্পট দেয়। ঠিক একই কায়দায় তাঁর ভাসুরের বাড়ি থেকেও সোনা ও নগদ টাকা চুরি করা হয়। সোমবার সকালে বাড়ির লোকজন ফিরে এসে চুরির (Theft) ঘটনা দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।
এই চুরির সবচেয়ে অবাক করা দিকটি হলো, দুই পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ঢুকতেই বুঝতে পারেন যে, চোরেরা তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং বেশ সময় নিয়ে আরাম করে কাণ্ডটি ঘটিয়েছে। বাড়িতে ঢুকেই তারা প্রথম ফ্রিজ খোলে এবং ভেতরে থাকা আপেল, চকোলেট ও অন্যান্য খাবার পেটপুরে খেয়ে ফাঁকা করে দেয়। চোরদের এমন অদ্ভুত আচরণ দেখে তাজ্জব বনে গেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
প্রতিবেশী মহাদেব কর্মকার জানান, এমন চুরির ঘটনা এলাকায় আগে কখনও ঘটেনি, যার জেরে গোটা গ্রামজুড়ে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে পূর্বস্থলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি বাড়িতেই তদন্ত শুরু করেছে এবং চোরেদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

