Nakshalbari | নকশালবাড়িতে জঙ্গল ঘেঁষে ক্র্যাশার, বিপন্ন বুনোরা

Nakshalbari | নকশালবাড়িতে জঙ্গল ঘেঁষে ক্র্যাশার, বিপন্ন বুনোরা

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


নকশালবাড়ি : সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষে তৃণমূল নেতার বসানো ক্র্যাশার মেশিনের জেরে বিপন্ন বন্যপ্রাণীরা। অভিযোগ, নকশালবাড়ি ব্লকের মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কলাবাড়ি বনাঞ্চল ঘেঁষে ফের একটি ক্র্যাশার মেশিন বসানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবেশপ্রেমী সংগঠন এই ক্র্যাশার মেশিন বসানো নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে। বন দপ্তর বিষয়টি নিয়ে দায় ঠেলছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের উপর। ডিএলএলআরও রামকুমার তামাংয়ের বক্তব্য, ক্র্যাশার বসানোর অনুমতি দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ দেয়। তারা কীভাবে জঙ্গলের পাশে অনুমতি দিল তা খতিয়ে দেখা হবে।

কলাবাড়ি বনাঞ্চল ঘেঁষে রকমজোত এলাকায় পরপর দুটি ক্র্যাশার মেশিন বসানো হয়েছে মাস দুয়েক আগে। ঢিল ছোড়া দূরত্বেই রয়েছে মেচি নদী। এই নদী থেকে দিনরাত রিভার বেড মেটিরিয়াল তোলা হচ্ছে। ক্র্যাশার মেশিনে বড় বোল্ডারগুলি ভেঙে বিহারে পাচার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সবকিছু জেনেও চুপ পুলিশ, বন দপ্তর ও ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরা। কারণ, এই পাচারের লভ্যাংশের ভাগ ঢুকছে কয়েকজন আধিকারিকের পকেটে। তৃণমূল কংগ্রেসের শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের এক নেতা এবং এলাকার এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের মালিকানায় জঙ্গল ঘেঁষে চলছে এই ক্র্যাশার মেশিন।

ভারত-নেপাল সীমান্তে কার্সিয়াং ডিভিশনের পানিঘাটা রেঞ্জের অন্তর্গত কলাবাড়ি বনাঞ্চল এমনিতেই হাতির করিডর হিসেবে পরিচিত। এই জঙ্গল হাতিদের ছাড়াও বাইসন, হরিণ, চিতাবাঘের আস্তানা। এমন একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশে পরপর ক্র্যাশার মেশিন বসানোর অনুমতি কারা দিল, এনিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এলাকার বাসিন্দা তথা পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ঐরাবতের সভাপতি সিকে ছেত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের নজরে বিষয়টি এসেছে। কলাবাড়ি বনাঞ্চলে সারাবছরই হাতির আনাগোনা থাকে। দুই দেশের মধ্যে হাতিদের চলাচলের প্রধান করিডর এই জঙ্গল। অথচ জঙ্গলের উপর বালি-পাথর মাফিয়াদের অত্যাচার বেড়েই চলেছে। এই মেশিনগুলির দূষণে বন্যপ্রাণীরা তাদের আশ্রয়স্থল হারাতে চলেছে। শুধু তাই নয়, মেচি নদীতে অবাধ খননের জেরে কেন্দ্রীয় সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মেচি প্রোটেকশন স্কিমে তৈরি বাঁধ ভেঙে পড়ছে। জঙ্গলের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী গ্রামের অস্তিত্বও সংকটে রয়েছে। আমরা দ্রুত এই নিয়ে ডিএফওকে চিঠি দেব।’

এলাকার বাসিন্দা নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সজনী সুব্বা বলেন, ‘কাদের ইশারায় এই ক্র্যাশার চলছে আমার জানা নেই। অফিসেও কোনও নথিপত্র নেই।’ কার্সিয়াং বন বিভাগের ডিএফও দেবেশ পান্ডে বলেন, ‘জঙ্গলের পাশে এই ধরনের মেশিন বসানো হলে আমাদের কাছে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু রকমজোতে ক্র্যাশার বসানোর কোনও এনওসি আমার কাছে নেওয়া হয়নি। আমি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’ দার্জিলিং জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলা শাসক রামকুমার তামাংকে ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

নকশালবাড়ি ব্লকের বিএলএলআরও দীপাঞ্জন মজুমদার বলেন, ‘রকমজোতে কলাবাড়ি জঙ্গলের পাশে নতুন করে ক্র্যাশার মেশিন বসানো হয়েছে- এই নিয়ে কোনও নথিপত্র আমাদের কাছে নেই। যদিও এমন কোনও মেশিন বসানো হয় তাহলে আমরা চিঠি দিয়ে বন্ধ করে দেব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *