Balurghat Hospital | হাসপাতাল না কি নরককুণ্ড? জলকাদা মাড়িয়েই ঢুকছে রোগী

Balurghat Hospital | হাসপাতাল না কি নরককুণ্ড? জলকাদা মাড়িয়েই ঢুকছে রোগী

শিক্ষা
Spread the love


সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: সারারাত ধরে লাগাতার বৃষ্টি আর তাতেই ইমার্জেন্সির সামনে জমে গিয়েছে জল। আর সেই নোংরা জলকাদা মাড়িয়েই চলাচল করতে গিয়ে ক্ষোভে বিড়বিড় করছিলেন পতিরাম বেহাতোরের বাসিন্দা লোকমান মণ্ডল। তাঁকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো এরকম হলে মানা যায়। কিন্তু জেলা সদর হাসপাতালের একেবারে ইমার্জেন্সির সামনের রাস্তায় যদি এমন জলকাদা থাকে, তাহলে চলাফেরা করব কী করে?’

এদিকে ভেতরে রোগী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। কুমারগঞ্জের আজমির হোসেন সারাদিনই ইমার্জেন্সির পাশেই আত্মীয়দের বসার জায়গায় বসে অপেক্ষা করছিলেন। আচমকা হাসপাতালের ভেতর থেকে তাঁকে ডাকা হয়। তিনি তড়িঘড়ি জলকাদা মাড়িয়ে ছুটতে গিয়ে, গোবরে পা পিছলে পড়ে যান। এইভাবে আচমকা আছাড় খেয়ে রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান তিনি। তারপর উঠেই একরাশ ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘একেই তো চিকিৎসা পরিষেবার বেহাল অবস্থা। তার উপরে হাসপাতালে চলাচল করাই যায় না। রাস্তাজুড়ে গবাদিপশুর গোবর, নোংরা জলকাদায় ভরে রয়েছে এলাকা। সব মন্ত্রী, জেলা শাসক, ভিআইপিরা নাকি এই শহরেই থাকেন, তাঁদের কি এসব চোখে পড়ে না?’

বালুরঘাট হাসপাতাল (Balurghat Hospital) ক্যাম্পাসে শুধুমাত্র ইমার্জেন্সির সামনের রাস্তাতেই নয়, মাতৃসদন, বহির্বিভাগের সামনেও জলকাদায় মাখামাখি হয়ে রয়েছে। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর আত্মীয়পরিজনেরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই হয়রানির অভিযোগ তুলছেন।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে ভারী বর্ষণ। আসছে কালবৈশাখী ঝড়। আর এই ঝড়ের ফলে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় নানা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল রাতের ভারী বৃষ্টিতে শহরের বহু এলাকায় জল জমে গিয়েছে। মাঝিয়ান আবহাওয়া দপ্তরের পর্যবেক্ষক সুমন সূত্রধর বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ৭২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ৩ তারিখ পর্যন্ত হালকা এবং মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’

এদিকে গতকাল রাতে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে ব্যাপক বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যায়। যদিও পরে তা নেমেও গিয়েছে। তবে বজ্রপাতের ফলে বালুরঘাটের অনেক বাড়িতেই টিভি, ফ্রিজ সহ ইলেক্ট্রিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যেমন বালুরঘাটের চকভৃগুর বাসিন্দা মনোজ চৌধুরীর বাড়ির টিভি, ফ্যান, ফ্রিজ এবং অন্য সরঞ্জাম বজ্রপাতের ফলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা বলেন, ‘গতকাল রাতের ঝড়-বৃষ্টির পর আমাদের বিপর্যয় মোকাবিলা টিম ভোর থেকে কাজ করছে। যে সমস্ত এলাকায় জল জমেছে তা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালের সামনে ড্রেন বন্ধ থাকায় একটু সমস্যা হয়েছে। আমরা সেখানেও কাজ করছি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *