উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: উৎসবের সকালে যখন আলোর রোশনাইয়ে ভাসার কথা ছিল, ঠিক তখনই হাড়কাঁপানো আতঙ্কে শিউরে উঠল কোচবিহারের (Coochbehar Information) মাথাভাঙ্গা (Mathabhanga Homicide Case)। বড়দিনের সকালেই ঝরল রক্ত। হাজরাহাট ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বালাসী এলাকায় সরকার ও সিকদার পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন কাকা ও ভাইপো। এই ঘটনায় যেমন ‘প্রেমঘটিত’ বিবাদের তত্ত্ব উঠে আসছে, ঠিক তেমনই একে ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বালাসী এলাকার সরকার পরিবারের ছেলে যাদব সরকারের সঙ্গে সিকদার পরিবারের মেয়ের প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল। তা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। এই বিবাদ মেটাতে সালিশি সভা বসার কথা ছিল। অভিযোগ, আলোচনার আগেই সিকদার পরিবারের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় সরকার পরিবারের ওপর। এলোপাতাড়ি আক্রমণে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ২২ বছরের যাদব সরকার এবং তাঁর কাকা মানব সরকার (৪৫)। গুরুতর জখম হন আরও চারজন। বর্তমানে তাঁরা মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ: ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নামেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি দাবি করেন, “যাঁরা খুন হয়েছেন তাঁরা দু’জনেই বিজেপির সক্রিয় কর্মী। মানব সরকার আবার মণ্ডলের যুব মোর্চার সহ সভাপতি।” শুভেন্দু মৃতদের সদস্য পদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখিয়ে দাবি করেন, ব্যক্তিগত বিবাদ বলে পুলিশ সত্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। পুলিশের কড়া পাহারায় বিজেপি (BJP) নেতাদের এলাকায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। বিরোধী দলনেতার সাফ কথা, “খুনিরা তৃণমূলের পরিচিত গুন্ডা। পুলিশ সত্য গোপন করে ঘটনাটিকে অরাজনৈতিক করার অপচেষ্টা করছে।”
এলাকার পরিস্থিতি: জোড়া খুনের পর গোটা বালাসী এলাকা থমথমে। শ্মশানের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে গ্রামজুড়ে। ঘটনার পর থেকে তৃণমূলের (TMC) পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে। খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
