বালুরঘাট: কর্মব্যস্ততায় ডুবে ছিলেন উকিল, মুহুরি থেকে শুরু করে সকলে। আর ঠিক সেই সময়ই বেঞ্চ, টেবিল ভেঙে চুরমার হল বালুরঘাট জেলা আদালতে (Balurghat)। যদিও এই ভাঙচুরের অভিযোগ জানানো সম্ভব নয়। কারণ এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দু’টি ষাঁড়। আর এই ষাঁড় দু’টির মারামারিতে মঙ্গলবার তুমুল কাণ্ড বাঁধে আদালত চত্বরে (Bull battle)। প্রাণ বাঁচিয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন আইনজীবীরা। বেশ কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় আদালতের সমস্ত কাজ।
জানা গিয়েছে, এদিন আইনজীবী, মুহুরিদের বসার জায়গার সামনেই ঝামেলা বাঁধায় দু’টো ষাঁড়। দীর্ঘক্ষণ ধরে শিং দিয়ে তাদের লড়াই চলতে থাকে। এরপর সেই লড়াই থামাতে একজন ষাঁড়ের গায়ে ঠান্ডা জল ছিটাতেই উত্তেজিত হয়ে মুহুরিদের বসার জায়গার দিকে চলে আসে তারা। তখনই একাধিক সিমেন্টের পিলার, বেঞ্চ এদিক ওদিক ছিটকে চলে যায়। এমনকি ওপরে থাকা টিনের চাল নিচে নেমে চলে আসে।
অন্যান্যদিনের মতোই বিচারপ্রার্থীরা এদিন সেখানে কাজের জন্য জমায়েত হয়েছিলেন। তাঁরাও ভয়ে এদিক ওদিক ছুটতে থাকেন। যদিও কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এরপরই আইনজীবীরা সুরক্ষিত থাকতে লোহার গ্রিল লাগাতে উদ্যত হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ষাঁড় দু’টি চলে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সকলে। মাঝেমধ্যেই আদালত চত্বরে এভাবে ষাঁড়ের অবাধ প্রবেশ নজরে পড়ে। বিশাল বড় জায়গায় এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায় ষাঁড়গুলি। কিন্তু এদিনের ঘটনার পর এভাবে আদালত চত্বরে ষাঁড়ের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
এপ্রসঙ্গে এক বিচারপ্রার্থী তনুময় বিশ্বাস বলেন, ‘আমি ওই এলাকায় বাইক রেখে আইনজীবীর কাছে এসেছিলাম। ষাঁড়ের মারামারির চোটে ভেবেছিলাম বাইক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও বাইকের কিছু হয়নি।’
কোর্টের আইনজীবী শান্তনু মাহাতো বলেন, ‘হঠাৎ ষাঁড়ের এমন মারামারির জেরে কিছুক্ষণের জন্য সকলেই কাজ ছেড়ে উঠে যান। পরে ষাঁড় দু’টি চলে যাওয়ার পর কাজের গতি স্বাভাবিক হয়েছে। ষাঁড়ের মারামারির সময় পালাতে গিয়ে আমার হাতে আঘাতও লেগেছে।’
