কোচবিহার: ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নাবালিকাকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তারই পিসেমশাইয়ের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নাবালিকার ঠাকুমা জানতেন। তারপরেও সবটা গোপন করে রাখায় মঙ্গলবার তাঁকে আটক করেছে কোচবিহার সদর মহিলা থানার পুলিশ। মূল অভিযুক্ত অবশ্য পলাতক। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত অসমের বাসিন্দা। তাই তাঁকে ধরার জন্য সেখানকার পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি। ১৪ বছরের ওই নাবালিকার বাবা-মা কর্মসূত্রে শিলিগুড়িতে থাকতেন এবং নাবালিকা কোচবিহার-১ ব্লকে তার ঠাকুমা-ঠাকুরদার কাছে থাকে। মাসখানেক আগে ওই বাড়িতে বেড়াতে আসেন নাবালিকার পিসেমশাই। অভিযোগ, এরপরই ঘুমের ওষুধ খাইয়ে লাগাতার নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে নির্যাতিতা ওষুধ খেতে না চাইলে খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হত।
এরপর নাবালিকা সবটা তার পরিবারকে জানায়। বাবা-মা শিলিগুড়ি থেকে ফিরে আসেন। তখনই নাবালিকা চাইল্ড হেল্পলাইন ইউনিটে বিষয়টি ফোন করে জানায়। ৩১ অক্টোবর শিশু সুরক্ষা দপ্তরের অধীনে থাকা চাইল্ড হেল্পলাইন ইউনিটের আধিকারিকরা নাবালিকার বাড়িতে যান। সেদিনই নাবালিকার মা কোচবিহার সদর মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে নাবালিকার ঠাকুমাকে আটক করে।
চাইল্ড হেল্পলাইন ইউনিটের প্রোজেক্ট কোঅর্ডিনেটর সঞ্জিত তরফদারের কথায়, ‘আমরা ওই নাবালিকার বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমাদের তরফে সবরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। তার মেডিকেল পরীক্ষা করানো হবে।’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে মূল অভিযুক্তকে ধরার জন্য অসমে অভিযানের তৎপরতাও চলছে।
