Balurghat | খুদেদের মণ্ডপে ফুটে উঠছে উচ্ছ্বাসের রং

Balurghat | খুদেদের মণ্ডপে ফুটে উঠছে উচ্ছ্বাসের রং

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: যে কোনও পুজোর প্রস্তুতিপর্ব থেকে শুরু করে আয়োজন পর্যন্ত, কর্মকাণ্ডের সিংহভাগ অংশজুড়ে বড়দের জড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, পুজো আয়োজনকারী কমিটি বা ক্লাবগুলোর সদস্যপদগুলোতে শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক বা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নাম থাকে। ছোটদের সেখানে ঘেঁষতেই দেওয়া হয় না। কিন্তু, তাই বলে কি পুজোর আয়োজন থেকে পিছিয়ে থাকবে তারা?

বালুরঘাট (Balurghat) শহরে এবার খুদেদেরও কালীপুজো করতে দেখা যাবে। শহরজুড়ে এখন একটাই সুর, ‘আমরাও করব পুজো।’ বালুরঘাটের অলিগলি, মহল্লা, পাড়ায় স্কুল পড়ুয়াদের হাতে এবার শ্যামাপুজো হতে চলেছে। কোথাও কাগজ, খড়, বাঁশের তৈরি কুঁড়েঘর, তো কোথাও সুদৃশ্য প্যান্ডেল, আবার কোথাও নিজস্ব ছোঁয়ায় সাজানো প্রতিমা। সবটাই খুদেদের উদ্যোগে। যা দেখে উচ্ছ্বসিত হচ্ছেন বড়রাও। কৌশিক সরকার নামে এক অভিভাবক হাসতে হাসতে বললেন, ‘এই বয়সেই ওরা দলবেঁধে কাজ করতে শিখছে। দায়িত্ব নিতে শিখছে। এটাই তো উৎসবের আসল মানে।’

খিদিরপুরের নিউ স্টার সংঘের পুজো এবার শহরে চর্চার বিষয়। এলাকার ২০ জন স্কুল পড়ুয়া মিলে গড়ে তুলেছে এই সংঘ। সম্পাদক থেকে কোষাধ্যক্ষ সব পদেই খুদে মুখ। খিদিরপুর হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রূপম সূত্রধর হাসতে হাসতে বলল, ‘আমরাই এবার সব করেছি। বাঁশ কেটেছি, আলো বেঁধেছি। এমনকি প্রতিমার সাজও নিজেরাই ঠিক করেছি।’ পাশে দাঁড়ানো অষ্টম শ্রেণির রাজ মণ্ডল যোগ করল, ‘বড়রা শুধু একটু সাহায্য করেছে, বাকিটা আমাদের মনের মতো। সকলে হাতে হাত মিলিয়ে মণ্ডপ তৈরি করেছি। এতে আমাদের মন ভরে গিয়েছে।’

পালপাড়ার ভাই ভাই সংঘে সমান উৎসাহ। খড়ের চালা, কাগজের ফুল ও রংয়ের ছোঁয়ায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে তাদের প্যান্ডেল। ললিতমোহন আদর্শ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র অরূপ রায় গর্বের সুরে বলল, ‘আমরা কেউ আগে প্যান্ডেল বানাইনি। ইউটিউব দেখে শিখেছি। এখন মনে হচ্ছে আমরাও পারি।’ পাশে দাঁড়ানো স্কুল ছাত্রী শিবানী হালদার জানাল, পুজোর দিনে তারাই আরতি দেবে ও প্রসাদ বিলি করবে।

এদিকে সাহেব কাছারির শিশু সংঘেও উৎসবের জোয়ার। স্কুল ছাত্র অজয় দাস বলল, ‘বড়রা আগে পুজো করত। এবার আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। তাই সবাই মিলে পুজোর খরচ জোগাড় করেছি। কেউ দশ টাকা, কেউ কুড়ি টাকা করে দিয়েছে।’

বালুরঘাটের ২ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডেও এমন খুদের উদ্যোগে সাজছে পুজো। মণ্ডপে ভিড় জমছে এলাকাবাসীর। ছোটদের হাসি, তাদের তৈরি আলপনা, নিজেদের গড়া দেবীর প্রতিমা। সবমিলিয়ে যেন এবার অন্যরকম এক শ্যামাপুজোর সাক্ষী থাকছেন শহরবাসী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *