Gazole | চিন্ময়কে নিয়ে ক্ষোভ দলে, গাজোলে নতুন মুখ চেয়ে সরব বিজেপির একাংশ 

Gazole | চিন্ময়কে নিয়ে ক্ষোভ দলে, গাজোলে নতুন মুখ চেয়ে সরব বিজেপির একাংশ 

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


গৌতম দাস, গাজোল: দলের বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মনকে নিয়ে আড়াআড়িভাবে ভাগ হয়ে গিয়েছে জেলা বিজেপি (BJP)। জেলা ও ব্লক নেতৃত্বের একাংশ যখন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে গাজোলে (Gazole) আর চিন্ময়কে প্রার্থী হিসাবে চাইছেন না, তখন সামাজিক মাধ্যমেও দলীয় বিধায়ককে ঘিরে ঝড় উঠেছে। বিধায়ককে নিয়ে সমাজমাধ্যমে বিজেপির এক কর্মীর পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় লেখা আছে, ‘গাজোল বিধানসভায় বিজেপির নতুন প্রার্থী চাই।’ এই পোস্টকে সমর্থন করে শেয়ার করেছেন বিজেপি জেলা নেতা ঠাকুরদাস সরকার সহ আরও অনেকে। আর এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গাজোলজুড়ে।

কিন্তু প্রার্থী বদল করতে চাইছেন কেন?

এই প্রশ্ন করা হয় বিজেপির জেলা নেতা ঠাকুরদাস সরকারকে। প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমাদের মতো যাঁরা দীর্ঘদিনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির বিজেপির নেতা-কর্মী রয়েছেন, তাঁদের পাত্তা দেন না চিন্ময়। গত পাঁচ বছরে বিধায়ক কোথায় কী কাজ করেছেন, তা আমরা কেউ জানি না। শুনতে পাচ্ছি কিছু কাজ নাকি করেছেন তৃণমূলের ঠিকাদারদের দিয়ে। আমরা শুনেছি, ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিনি মোটা টাকা নিয়েছেন। বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের কাছ থেকেও কাটমানি নিয়েছেন। তাই গাজোলের ৭০ শতাংশ মানুষ বর্তমানে চিন্ময়কে আর চাইছেন না। একথা সত্যি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি মঞ্চর ব্যানারে আমরা বিজয়া সম্মিলনি করেছি। সেখানে প্রার্থী বদল নিয়ে দাবি উঠেছে। পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আমাদের এই দাবির সঙ্গে একমত। গাজোল ব্লকের বেশিরভাগ নেতা-কর্মী আমাদের পক্ষে রয়েছেন। আমরা দাবি তুলেছি, চিন্ময় দেব বর্মন নয়, এবারে অন্য কাউকে প্রার্থী করা হোক। চিন্ময়কে প্রার্থী করা হলে দলের একটা বড় অংশ বসে যাবে।’

এবিষয়ে বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মন বলেন, ‘ওরা কী করবে তা আমি জানি না। সবাইকে তো আমি খুশি করতে পারব না। তবে কারও সঙ্গেই আমার সম্পর্ক খারাপ নয়। আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও অভিযোগ থাকলে দলের কাছে জানাক। তাঁদের কাছে যা প্রমাণ রয়েছে, তা দলের কাছে জমা দিন। তবে ২০২১ সালেও আমার প্রার্থী হওয়া নিয়ে দলের কিছু নেতা-মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ আমার মাথায় আশীর্বাদের হাত রেখেছিলেন। আমি সেই সমস্ত সাধারণ মানুষের উপর ভরসা রাখি।’

বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রতাপ সিং বলেন, ‘এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। দলের নেতৃত্ব এই বিষয়ে আলোচনা করে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে।’ বিজেপির এই কোন্দলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি রাজকুমার সরকার বলেন, ‘বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর গত সাড়ে চার বছরে একটাও কাজ করেননি চিন্ময় দেব বর্মন। বিভিন্ন জায়গা থেকে শুধু কাটমানি খেয়েছেন। এই কথা আজকে বিজেপি নেতা-কর্মীরাও বলছেন। এই সাড়ে চার বছরে গোটা গাজোল তো দূরের কথা, ৩০টি বুথেও পৌঁছাতে পারেননি বিধায়ক। তিনি যদি সেই প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’ অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গোটা গাজোল ব্লকে একের পর এক প্রকল্প রূপায়ণ করে চলেছি আমরা। এবারের নির্বাচনে মানুষ যদি আমাদের আশীর্বাদ করেন, তাহলে উন্নয়নের নিরিখে গোটা গাজোলের চেহারাটাই পালটে দেব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *