উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ আসানসোল পুরনিগমে চরম প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং দুর্নীতির অভিযোগে খোদ পুর দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির কড়া শো-কজ নোটিসকে ঘিরে অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির (Asansol Mayor Bidhan Upadhyay)। এরই মধ্যে পরিস্থিতি সামলাতে কলকাতায় ছুটে এসে মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের কালীঘাটের বদলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
আসানসোল পুরনিগমে বোর্ড মিটিং না হওয়া, সম্পত্তি কর মকুবসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি পুর দফতরের তোপের মুখে পড়েছে পুরবোর্ড। এই অবস্থায় মেয়রকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়। এরই মধ্যে সঞ্জয় নোনিয়া ও অশোক রুদ্রের মতো ৬ জন হেভিওয়েট কাউন্সিলরের ইস্তফায় পুরবোর্ডের ভাঙন এখন স্পষ্ট। যদিও মেয়র তাঁর ৬ পাতার জবাবে সরকারের আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টে পুর কমিশনারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন।
সবচেয়ে নাটকীয় মোড় আসে যখন মেয়র কলকাতায় পৌঁছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে দেখা না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সাক্ষাতের ছবি ভাইরাল হতেই আসানসোলের রাজনীতিতে দলবদলের জল্পনা চরমে ওঠে। বিধানবাবু ঋতব্রতকে বিধানসভার নিরিখে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেয়র রহস্যময়ভাবে বলেন, “যেখানে দলের কর্মীরা ও প্রতীক থাকবে, সেখানেই যাব।” মেয়রের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতির অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মেয়রের এই দূরত্ব আসানসোল পুরনিগমকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সরকার ও দলের অন্দরে এই পরিস্থিতির ওপর এখন নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট সব মহল।

