উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অযোধ্যার (Ayodhya) রামমন্দিরে প্রণামী চুরিকাণ্ডে (Ram Mandir Donation Theft Controversy) দেশজুড়ে যে বিতর্কের ঝড় উঠেছে, অবশেষে তা নিয়ে মুখ খুললেন শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সদ্যপ্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। মঙ্গলবার রামভক্তদের উদ্দেশে এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) (SIT) তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের জবাব তিনি রিপোর্ট প্রকাশের পরই দেবেন বলে সাফ জানিয়েছেন চম্পত রাই।
৭ জুন থেকে রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে প্রণামী গণনার সময় চুরির যে ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, তাকে ‘তথাকথিত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন চম্পত রাই। তিনি লিখেছেন, “মন্দিরের প্রণামী চুরি সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে বহু গুজব ও আলোচনা চলছে। অনেকে ব্যক্তিগত কারণে আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।” সিটের তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন তিনি যে ‘নীরবতার ব্রত’ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন চম্পত রাই।
এই প্রণামী চুরির ঘটনায় নাম জড়িয়েছে খোদ ট্রাস্টের শীর্ষ নেতৃত্বের। গত ২৬ জুন সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের ইস্তফা এই জল্পনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ধৃত মূল অভিযুক্ত রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু একসময় চম্পত রাইয়ের গাড়ির প্রাক্তন চালক ছিলেন। এমনকি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের করসেবকপুরমের সঙ্গে যুক্ত টিন্নু পরবর্তীকালে চম্পত রাইয়ের উদ্যোগেই প্রণামী সংরক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এছাড়া, অপর ধৃত মণীশ, যে কিনা প্রণামী গণনা ও নজরদারির দায়িত্বে ছিল, সে টিন্নুর ভাইপো। মণীশের বাড়ি থেকে চুরি করা টাকার একাংশ উদ্ধারের খবর আসতেই জনমানসে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ট্রাস্টের হিসেব অনুযায়ী, ৩,২৬৪ কোটি টাকা প্রণামী হিসেবে জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ২,৩৭০ কোটি টাকা মন্দির নির্মাণ ও ধর্মীয় পরিকাঠামোয় খরচ হয়েছে বলে দাবি ট্রাস্টের। কিন্তু বাকি বিশাল অঙ্কের টাকার নিরাপত্তা ও চুরির ঘটনায় ট্রাস্টের অন্দরের সদস্যদের যোগসাজশ কি তবেই এই কলঙ্ক ডেকে আনল? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। ইস্তফা দিলেও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সহ-সভাপতি পদে বহাল রয়েছেন চম্পত রাই। অন্যদিকে, ট্রাস্টের নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বজরং বাগড়া। এখন সিটের চূড়ান্ত রিপোর্টই বলবে, রামমন্দিরের এই আর্থিক কেলেঙ্কারির দায়ভার ঠিক কার কাঁধে এবং চম্পত রাই কি সত্যিই এর থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবেন?।

