উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন পর্বতশ্রেণি আরাবল্লী রক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল মোদি সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক সমস্ত রাজ্যকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আরাবল্লী অঞ্চলে আর একটিও নতুন খনি লিজ দেওয়া যাবে না। পর্বতমালাটির সংজ্ঞা বদলে ফেলার যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, জনরোষের চাপে আপাতত সেই অবস্থান থেকে সরে এল কেন্দ্র।
কেন পিছু হঠল সরকার? সম্প্রতি আরাবল্লীর ‘নতুন সংজ্ঞা’ নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠে। প্রস্তাব ছিল, ১০০ মিটারের নিচের পাহাড়ি এলাকাকে আরাবল্লীর আওতা থেকে বাদ দেওয়া হবে। পরিবেশবিদদের দাবি ছিল, এটি কার্যকর হলে পাহাড়ের ৯০ শতাংশ এলাকা খনি মাফিয়া ও প্রোমোটারদের দখলে চলে যেত। কংগ্রেস সহ বিভিন্ন বিরোধী দল ও সামাজিক সংগঠন রাজস্থান, হরিয়ানা এবং দিল্লিতে গণআন্দোলন শুরু করতেই অস্বস্তিতে পড়ে কেন্দ্র। শেষ পর্যন্ত সেই ‘নতুন সংজ্ঞা’র প্রস্তাব সরিয়ে পাহাড়ের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় সীমানা বাড়ানোর নির্দেশ দিল মন্ত্রক।
নির্দেশিকার প্রধান দিকসমূহ: ১. খনি লিজে স্থগিতাদেশ: গুজরাট থেকে দিল্লি (NCR) পর্যন্ত আরাবল্লীর পুরো অংশে নতুন কোনো খনি লিজ দেওয়া যাবে না। ২. সংরক্ষিত অঞ্চলের ব্যাপ্তি: ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ফরেস্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন’ (ICFRE)-কে অতিরিক্ত এলাকাকে ‘নিষিদ্ধ জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ৩. টেকসই পরিকল্পনা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ‘ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান ফর সাসটেইনেবল মাইনিং’ (MPSM) তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। ৪. কঠোর নজরদারি: বর্তমানে চালু থাকা খনিগুলো পরিবেশবিধি মেনে চলছে কি না, তা নিয়ে রাজ্যগুলোকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরাবল্লীর গুরুত্ব ও সংকট: আরাবল্লী কেবল পাহাড় নয়, এটি থর মরুভূমির সম্প্রসারণ রোধে ভারতের একমাত্র ‘প্রাকৃতিক দেওয়াল’। এটি দিল্লির মতো দূষিত শহরের ভূগর্ভস্থ জল রিচার্জের প্রধান উৎস। গত তিন দশকে যথেচ্ছ খননের ফলে পাহাড়ের উচ্চতা কমেছে এবং বন্যপ্রাণীরা বাসস্থান হারিয়েছে। পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, সরকার পরিবেশ ও অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশবিদরা এই সিদ্ধান্তকে ‘শুভ বুদ্ধির উদয়’ বললেও, বাস্তবে নজরদারি কতটুকু হয়, সেদিকেই এখন নজর সচেতন মহলের।
