উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আনন্দপুরের হাড়হিম করা অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Fireplace Inciedent) ৪২ ঘণ্টা পর অবশেষে আটক হলেন গুদাম মালিক গঙ্গাধর দাস। মঙ্গলবার বারুইপুরের (Baruipur) বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাকে পাকড়াও করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ (Narendrapur Police)। বর্তমানে তাঁকে বারুইপুর জেলা পুলিশ দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হলেও নিখোঁজ ১৭ জনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা মালিকের: আটক হওয়ার পর গুদাম মালিক গঙ্গাধর দাস সমস্ত দোষ চাপিয়েছেন ওই মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার ওপর। তাঁর দাবি, জমি ও গুদামের মালিকানা তাঁর হলেও সেটি লিজে নিয়েছিল মোমো কোম্পানি। সেখানে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ বা নিরাপত্তার দায়িত্ব ওই সংস্থার ছিল। তবে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গুদামে ছিল না কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, এমনকি জরুরি অবস্থায় বেরোনোর মতো কোনো বিকল্প পথও ছিল না।
ভয়াল ধ্বংসস্তূপ ও উদ্ধারকাজ: রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ লাগা সেই আগুনের (Kolkata Fireplace Information) ক্ষত এখনও দগদগে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দমকলকর্মীরা যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তা শিউরে ওঠার মতো। ভস্মীভূত গুদামের ভেতরে পা রাখতেই উদ্ধারকারীদের পায়ে ঠেকছে পোড়া হাড়ের টুকরো! দমকলের মতে, মৃতদেহগুলো এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রে ছাই ও হাড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। নিখোঁজ ১৭ জনের পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপের বাইরে প্রিয়জনদের ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা ও ক্ষোভ: ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে দমকলমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, অনেক কারখানা বেআইনিভাবে চলছে। তিনি জানান, “বেআইনি কিছু প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে এই আশ্বাস মন গলাতে পারছে না স্বজনহারাদের। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও দমকলের নজরদারির অভাব এবং মালিকপক্ষের চরম গাফিলতিই প্রাণ কেড়ে নিল অসহায় শ্রমিকদের। অগ্নিনির্বাপক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দমকলের পক্ষ থেকে গঙ্গাধরের বিরুদ্ধে নরেন্দ্রপুর থানায় এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে, যার ভিত্তিতে তাঁকে আজই গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।
