বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, পতিরাম: প্রশাসনিক নজরদারি এড়িয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের আত্রেয়ী নদীর চরে চলছে অবৈধ বালি উত্তোলনের ‘মহোৎসব’। সোমবার সকালে পতিরামের বোল্লা পঞ্চায়েত এলাকার পারপতিরাম পালপাড়া ও হরিহরপুর চরে বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পড়লেন কয়েকশো কৃষক ও গ্রামবাসী। পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের আকার নিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পতিরাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
ঘটনার বিবরণ: প্রতিবাদী কৃষকদের হুমকি
স্থানীয় সূত্রে খবর, আত্রেয়ীর যে চরে অবৈধভাবে বালি তোলা হচ্ছে, সেখানে বহু কৃষকের নিজস্ব চাষের জমি রয়েছে। অভিযোগ, মাফিয়ারা সেই জমির বুক চিড়েই ট্রাক্টর নামিয়ে বালি লুট করছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলেই কৃষকদের ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি। হরিহরপুরের বাসিন্দা অতুল টুডু আক্ষেপ করে বলেন, ‘ভূমি দপ্তর সেতু ভাঙলেও পরদিনই ফের তা তৈরি করে বালি চুরি চলছে। প্রতিবাদ করলেই হুমকি। নিজেদের জমিতে চাষ করতে পারছি না। আজ আমরা প্রতিবাদ করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে তারা। পুলিশ কিচ্ছু করে না। গন্ডগোল লাগলে শুধু এসে বলে গন্ডগোল কোরো না। এবার আমরা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হব।’
অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলি:
• অবৈধ রিং সেতু: ভূমি দপ্তর বারবার মাফিয়াদের তৈরি অস্থায়ী বালির সেতু বা রিং সেতু ভেঙে দিলেও, একদিনের মধ্যেই তা ফের তৈরি করে ফেলা হচ্ছে।
• ফসলের ক্ষয়ক্ষতি: কৃষিজমির মাঝখান দিয়ে দিনরাত ট্রাক্টর চলাচলের ফলে ফসল নষ্ট হচ্ছে, সেই সঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন স্থানীয়রা।
• প্রশাসনের নীরবতা: ডিএম, বিএলঅ্যান্ডএলআরও এবং সেচ দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কোনও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান মেলেনি।
• নিরাপত্তাহীনতা: বালি মাফিয়াদের প্রকাশ্য হুমকিতে আতঙ্কে রয়েছেন চাষিরা।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে বালুরঘাটের বিএলঅ্যান্ডএলআরও রণেন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান, ‘নিয়মিত অভিযান চলছে। ফের অভিযান করা হবে।’ অন্যদিকে, পতিরাম থানার পক্ষ থেকেও এলাকা নজরদারিতে রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
