চোপড়া: বুধবার বিকেলে চোপড়ার কাঁচাকালী এলাকায় বিজেপির এক জনসভা থেকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট (Raju Bista) স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন। সাংসদ এদিন সরাসরি বিধায়ককে ‘বড় মাফিয়া’ বলে কটাক্ষ করেন এবং তাঁর অবৈধ সম্পত্তির কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি তোলেন।
সাংসদ রাজু বিস্ট এদিন দাবি করেন, বিধায়ক হামিদুল রহমান প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে এই সম্পত্তির তদন্ত হবে। সরকারে বিভিন্ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা এখানে প্রশাসনের মদতে লুট হয়েছে।” সভায় বিধায়কসহ মোট ৬৫ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে গুন্ডাগিরি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সাংসদ জানান, এই তালিকা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজ থেকে চোপড়ায় কেউ গুন্ডাগিরি করলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে। বিধায়কের সব গুন্ডাগিরি বন্ধ হবে।”
চোপড়ার মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি শোনার জন্য রাজু বিস্ট ঘোষণা করেন যে, এখন থেকে তিনি প্রতি মাসে অন্তত দু’বার চোপড়ায় আসবেন। পাশাপাশি এলাকায় একটি স্থায়ী সাংসদ কার্যালয় খোলার কথাও জানান তিনি। নিজের দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে তিনি স্বচ্ছতা বজায় রেখে মানুষের সেবা করার নির্দেশ দেন।
সাংসদের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিধায়ক হামিদুল রহমান বলেন, “রাজু বিস্ট এতদিন সাংসদ থেকে এক টাকারও কাজ করেননি। এখন লম্বা ভাষণ দিয়ে যার-তার নামে গ্রেপ্তারের তালিকা ধরিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমার ২০ কোটি টাকার সম্পত্তিও দেখাতে পারবেন না। নির্বাচনী হলফনামাতেই আমার সম্পত্তির বিবরণ দেওয়া আছে।”
জনসভা শেষে সাংসদ চোপড়া বিডিও অফিসে গিয়ে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি রিভিউ মিটিং করেন। এই বৈঠকে উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক বিবেক কুমার, ইসলামপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার রাকেশ সিং-সহ সরকারি আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
চোপড়ার রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে সাংসদ ও বিধায়কের এই বাগযুদ্ধ এবং বিধায়কের বিরুদ্ধে সম্পত্তির তদন্তের দাবি নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে এলাকা জুড়ে।

