Alexander Zverev US Open Champion | কেরিয়ারের সেরা বছর! ফরাসি ওপেনের পর ইউএস ওপেন জিতে ইতিহাস গড়লেন আলেকজান্ডার জেরেভ

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ চলতি বছরটা যেন স্বপ্নের মতো কাটল আলেকজান্ডার জেরেভের (Alexander Zverev US Open Champion)। ফরাসি ওপেন জয়ের পর এ বার ইউএস ওপেনও নিজের নামেই করলেন জার্মান তারকা! প্রতিযোগিতায় ইয়ানিক সিনার নামতে না পারা, চোট সারিয়ে ফিরে কার্লোস আলকারাজের কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় এবং নোভাক জোকোভিচের প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে যাওয়ার সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগালেন জেরেভ। নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ফাইনালে আমেরিকার বেন শেলটনকে চার সেটের কঠিন লড়াইয়ে (৬-৩, ৭-৬, ৫-৭, ৬-২) হারিয়ে কেরিয়ারের আরও এক গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন তিনি। চলতি মরশুমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে পুরুষদের ১ নম্বর টেনিস তারকা হিসাবেই এ বছরটা শেষ করতে চলেছেন ‘শাশা’ জেরেভ।

আমেরিকার ঘরের ছেলে বেন শেলটন প্রথমবার কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে ওঠায় আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের ২৪ হাজার দর্শকের সিংহভাগই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শেলটনকে সমর্থন করে গেছেন। প্রতিপক্ষের পাশাপাশি দর্শকদের বিপুল সমর্থন ও স্নায়ুর চাপ সামলে দুর্দান্ত খেলা উপহার দেন জেরেভ। বাঁহাতি শেলটনের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম গেমেই তাঁর সার্ভিস ভেঙে নিজের আধিপত্য বজায় রাখেন জার্মান তারকা। প্রথম সেট সহজে জেতার পর দ্বিতীয় সেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে শেলটনকে উড়িয়ে দেন জেরেভ।

তৃতীয় সেটে দ্বাদশ গেমে জোড়া ডাবল ফল্টের খেসারত দিয়ে নিজের সার্ভিস খুইয়ে বসেন জেরেভ, যে সুযোগ নিয়ে ম্যাচ পঞ্চম সেটে নিয়ে যাওয়ার আশা জাগান শেলটন। কিন্তু চতুর্থ সেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও জাত চেনালেন জেরেভ। দু’বার শেলটনের সার্ভিস ভেঙে অবলীলায় সেট ও ম্যাচ নিজের নামে করে নেন তিনি। এর আগে ২০২০ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনালে দুই সেটে এগিয়ে থেকেও ডমিনিক টিয়েমের কাছে হেরে যাওয়ার আক্ষেপ ছিল। এ বার আর সেই ভুল করলেন না তিনি। ১৯৮৯ সালে বরিস বেকারের পর মাত্র দ্বিতীয় জার্মান পুরুষ টেনিস তারকা হিসেবে ইউএস ওপেন জয়ের বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন জেরেভ।

কৈশোরের কঠিন লড়াই পেরিয়ে আজকের এই জায়গায় পৌঁছানোর নেপথ্য গল্পও এদিন ম্যাচ শেষে তুলে ধরেন জেরেভ। মাত্র চার বছর বয়সে টাইপ-১ ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। ম্যাচের মাঝেও তাঁকে বার বার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করতে, চকোলেট বা বিশেষ পানীয় খেতে দেখা গিয়েছে। এত বছর ধরে এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সামলে পেশাদার টেনিসে বিশ্বজয় করার পুরো কৃতিত্বটাই নিজের মাকে দিয়েছেন তিনি। আবেগঘন কণ্ঠে জেরেভ বলেন, “চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসক বলেছিল, পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা আমার কম। কিন্তু আমার পাশে আমার মা ছিল। আমাকে সব সময় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আমার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আমি যা হয়েছি, তার কৃতিত্ব পুরোটাই মায়ের।”

ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ শেলটনকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর প্রেমিকা, মার্কিন পেশাদার ফুটবলার ট্রিনিটি রডম্যানেরও মন জয় করেন জেরেভ। নিজের ম্যাচ ছেড়ে শেলটনের ফাইনাল দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ট্রিনিটি। হারের পর শেলটনের মন খারাপ দেখে ট্রিনিটিকে কেঁদে ফেলতে দেখা যায়। সেই মুহূর্তের প্রশংসা করে জার্মান তারকা রসিকতার সুরে বলেন, “ট্রিনিটি, আমার মনে হয় তোমার আজ খেলা ছিল। তাই না? সেই ম্যাচ ছেড়ে তুমি আমাদের খেলা দেখতে এসেছ। তুমি আমার কাছে পয়া।” জেরেভের এই কথায় মুহূর্তের জন্য বিষাদের সুর কেটে গ্যালারিতে হাসির রোল ওঠে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *