BRICS Summit 2026 | ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬: দ্বিপাক্ষিক বৈঠক থেকে নৈশভোজের মেনু বিতর্ক, এক নজরে সার্বিক চিত্র

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নয়াদিল্লির আইটিপিও চত্বর ভারত মণ্ডপমে সম্প্রতি সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ২০২৬ (BRICS Summit 2026)। ভারত এই বছরের শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেছে। ব্রিকসের সম্প্রসারিত রূপ নিয়ে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মহাসমাবেশে অংশ নেন চিন, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতারা। বৈশ্বিক এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) গত তিনদিনে কাজাখস্তান, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, বুরুন্ডি, নাইজেরিয়া এবং উগান্ডা সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে ১৫টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং একাধিক অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ সারেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর প্রারম্ভিক বক্তব্যে জানান, ভারতের ব্রিকস প্রেসিডেন্সি মূলত চারটি মূল স্তম্ভ—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের ওপর জোর দিয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলির যৌথ সহযোগিতায় এই দৃষ্টিভঙ্গি ‘উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক অংশীদারিত্বে’ রূপ নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সম্মেলনের অন্যতম প্রধান অর্জন ছিল সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ১৪০ দফার ‘নয়া দিল্লি ঘোষণা ২০২৬’। বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা, সন্ত্রাসবাদ দমন, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এই ঘোষণাপত্রে স্থান পেয়েছে। বর্তমানে ব্রিকসের ১১টি পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫% এবং বৈশ্বিক জিডিপির ৪০% প্রতিনিধিত্ব করে।

তবে কূটনীতির গম্ভীর আলোচনার বাইরেও সম্মেলনে রাজনৈতিক তর্জার জন্ম দিয়েছে একটি ভিন্ন বিষয়—গালার রাতের নৈশভোজের মেনু। ডিনারে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পরিবেশন করাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের (BJP vs Congress) মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি কটাক্ষ করে বলেন যে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। অন্যদিকে পবন খেরা প্রশ্ন তোলেন, ভারতের আমিষ রন্ধনশৈলী বিশ্বখ্যাত হওয়া সত্ত্বেও কেন মোদি সরকার দেশের এই সংস্কৃতিকে আড়ালে রাখল?

বিপক্ষের এই আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে শাসক দল বিজেপি। কংগ্রেসের সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে গেরুয়া শিবির জানায়, বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব দেখে বিরোধী দল হতাশায় ভুগছে। আন্তর্জাতিক স্তরে কংগ্রেসের এই মনোভাবকে একটি ‘নাসাজ ফুফা’-র (অষ্টমীর রাগের মতো তুচ্ছ কারণে অসন্তুষ্ট আত্মীয়) মানসিকতার সঙ্গে তুলনা করেছে বিজেপি। কূটনীতি, ভূ-রাজনীতি এবং ঘরোয়া রাজনৈতিক বিতর্কের এক অদ্ভুত মিশেলে এই ব্রিকস সম্মেলন দেশের রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *