উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ২০২১ সালের দিল্লির বঙ্গভবনের সামনে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এসএফআই (SFI) নেত্রী ঐশী ঘোষের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Aishe Ghosh Arrest Warrant Cancel) বাতিল করল দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দেন ঐশী। বিচারক বিজয়শ্রী রাঠোর তাঁর হাজিরা গ্রহণ করে ১ হাজার টাকার জরিমানার শর্তে এই পরোয়ানা বাতিল করেছে। প্রসঙ্গত, বুধবারই এই পরোয়ানার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়ে ঐশীকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
২০২১ সালে দিল্লির বঙ্গভবনের বাইরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর ভিত্তিতে এই আইনি প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি কর্মচারীর নির্দেশ অমান্য করা (আইপিসির ১৮৮ ধারা) এবং অনধিকার প্রবেশের (আইপিসির ৪৪৭ ধারা) মতো একাধিক অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। ইতিমধ্যেই এই মামলায় আদালতে চার্জশিটও জমা পড়েছে।
সম্প্রতি সিপিআই(এম)-এর জাতীয় কার্যলয় থেকে দিল্লি পুলিশ ঐশীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ তোলে দলীয় নেতৃত্ব। তারপরই আদালতের দ্বারস্থ হন এসএফআই নেত্রী।
প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) (CJP) যে আন্দোলন করেছে, সেই আন্দোলনে ঐশীও যোগ দিয়েছিলেন। গত শনিবার সেই আন্দোলন প্রত্যাহার হওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গোপালন ভবনে পৌঁছে যায় দিল্লি পুলিশ। যদিও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবী, রাজ্যসভা সাংসদ জন ব্রিটাসদের প্রবল আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত তারা ঐশীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ফিরে যেতে হয় পুলিশকে।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে ঐশী ঘোষের আইনি দিকটি পরিচালনা করেন আইনজীবী কে এন জয়শঙ্কর, কে আর সুভাষ চন্দ্রন এবং জাইমন অ্যান্ড্রুজ। আদালতের এই নির্দেশের ফলে এসএফআই নেত্রী সাময়িক আইনি স্বস্তি পেলেও মামলার ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের আবহে এই আদালতের রায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

