পঙ্কজ ঘোষ, গাজোল: প্রখর রোদে বিপর্যস্ত জনজীবন। ব্যস্ততম রাস্তাগুলি শুনসান। হাঁসফাঁস করছে প্রাণীকুল। গাছের তলা থেকে সরতে চাইছে না বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। এমন অবস্থায় গাজোল ব্লকের পান্ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আদিনা ফরেস্ট মিনি জু (Adina Forest Mini Zoo) (আদিনা মৃগদাব)-তে জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। এখানকার হরিণগুলির শারীরিক সুস্থতার লক্ষ্যে খাদ্যাভ্যাস এবং পরিচর্যায় আনা হয়েছে পরিবর্তন। বর্তমানে এখানে ৪টি শাবক সহ হরিণের সংখ্যা ৬৪টি। রয়েছে ৪টি নীলগাই। জু অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারভাইজার ইন্দ্রজিৎ দাস বলেন, ‘আমরা একটি টিম হিসেবে কাজ করছি। জেলা বন আধিকারিকের নির্দেশে গরম পড়ার আগে থেকেই বাড়তি যত্নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। শুধু খাবার নয়, তাদের বাসস্থান ও পানীয় জলের উৎসগুলিও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা হচ্ছে।’
বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে পাহাড় যখন ঘামছে, তখন গৌড়বঙ্গের গলদ্ঘর্ম হওয়াটাই স্বাভাবিক। গাজোলে বর্তমানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। স্বাভাবিকভাবেই হাঁসফাঁস অবস্থায় সকলে। একই দশায় উত্তরবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকা মালদার আদিনার মৃগদাব। যে কারণে এখানকার হরিণ ও নীলগাইদের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে বন দপ্তর। জু সূত্রে খবর, পশুচিকিৎসকদের পরামর্শে খাদ্যাভ্যাস ও পরিচর্যায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। তীব্র রোদে যাতে হরিণগুলি অসুস্থ হয়ে না পড়ে, তার জন্য সকাল ৬টা, ৯টা এবং বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ, দিনে তিনবার খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাবারের তালিকায় আগে মূলত ভেজানো গম, ছোলা ও ভুট্টা থাকত। কিন্তু এখন গরমে হরিণদের পুষ্টি ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে দেওয়া হচ্ছে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ এপিক দানা ও এপিক গুঁড়ো। পাশাপাশি পুষ্টির জন্য প্রচুর পরিমাণ জলজ ঘাসও সরবরাহ করা হচ্ছে। সংরক্ষিত এলাকার ভেতরে তিনটি বড় পুকুর রয়েছে। তৃষ্ণা মেটাতে হরিণরা যাতে সবসময় পরিচ্ছন্ন জল পায়, সেজন্য পুকুরগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে।
মালদার (Malda) ডিএফও নীতু জর্জ থোপন বলেন, ‘তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে হরিণদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারও খাবারের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রখর রোদের হাত থেকে প্রাণীদের বাঁচাতে রোদের তেজ যখন কম থাকে, তখন খাবার দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে আদিনা ফরেস্টের শীতল ছায়ায় স্বস্তি পেতে পর্যটকদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। হরিণদের এই বিশেষ যত্ন ও বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সকলেরই নজর আকাশের দিকে।
