নাগরাকাটা: হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ঠ নাগরাকাটার (Nagrakata) বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রতিদিন সন্ধ্যা ঘনালেই শুরু হয়ে যাচ্ছে মহাকাল বাহিনীর দাপাদাপি। কখনও চা বাগান, আবার কখনও বনবিস্ততে ঢুকে পড়ছে বুনোদের দল। সোমবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত আংরাভাসা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হৃদয়পুর ঠুকুরু লাইনে আটকে পড়ে ১৫টি হাতির একটি দল। এলাকাটি সেখানকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একদম গাঁ ঘেষে। স্কুলের পড়াশোনা চললেও ভয়ে কাঁটা দিয়েছিল পড়ুয়াদের। এদিকে ঠুকুরু লাইনে সকালবেলা হাতি দেখতে গিয়ে ভয়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে জখম হন সেখানকার রাজ কারেল ও সঞ্জয় কারেল নামে দুই ব্যক্তি। তাঁদের পা ও হাতে আঘাত লেগেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর এক জনের পা ভেঙেছে। খবর পেয়েই বন দপ্তরে বন্যপ্রাণ শাখার বিন্নাগুড়ি রেঞ্জ ও জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) ডিভিশনের ডায়না রেঞ্জের কর্মীরা গিয়ে পালা করে সেখানে নজরদারি চালান। ডায়না রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার সাম্য রায় বলেন, ‘রাতে হাতিগুলি জঙ্গলে ঢুকে যায়। পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখা হচ্ছে।’
বন দপ্তর সূত্রেই জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে দুটি বড় হাতির পাল ডায়নার জঙ্গলে রয়েছে। ঠুকুরু লাইনে আটকে পড়া পালটি ছাড়াও এদিন সন্ধ্যায় আংরাভাসা-১ পঞ্চায়েতেরই আপার কলাবাড়ি বিস্ততে ৩৫টি হাতির একটি দল ঢোকে। খবর পেয়ে সেখানেও যান ডায়না রেঞ্জের কর্মীরা। রবিবার রাতে ওই পালটিই রেললাইন টপকে ধরণীপুর চা বাগানে যাওয়ার চেষ্টা করে। বনকর্মীরা তাদের আটকে দেন। রাতভর পাহারা চলে। ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে নয়ানজুলির ঘাসবনে হাতিগুলি রয়ে যায়। পরে ভোরে জঙ্গলে ফেরত যায়। অন্যদিকে বানারহাটের (Banarhat) গ্যান্দ্রাপাড়া চা বাগানেও একটি হাতি দিনভর দাপিয়ে বেড়ায়।
ঠুকুরু লাইনের গণেশ রাই নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘হাতির ভয়ে গোটা গ্রাম সিঁটিয়ে রয়েছে। প্রতি রাতেই এখানে গণেশের অত্যাচার। চাষবাস কার্যত বন্ধ। বন দপ্তর কিছু একটা করুক।’ গ্রামের স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমরনাথ ছেত্রী বলেন, ‘খুদেরা যাতে এদিক-ওদিক না চলে যায় সেজন্য সারাদিন পাহারা দিয়ে রেখেছিলাম। যে ঝোপের মধ্যে ওই হাতির পালটি ছিল স্কুল থেকে সেটার দূরত্ব সামান্যই।’ এদিকে নাগরাকাটার খয়েরবাড়ি, বামনডাঙ্গা চা বাগানেও হাতির দৌরাত্ম্য চলছে।

