নয়ারহাট: মাথাভাঙ্গা-শীতলকুচি (Mathabhanga-Sitalkuchi) রাজ্য সড়কে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় (Accident) এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে এক ই-রিকশা চালকের। তিন শিশু সহ মোট পাঁচজন যাত্রী গুরুতর জখম হয়েছেন। পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের এলংমারি এলাকায় সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বেশ কয়েকজন যাত্রীকে নিয়ে ই-রিকশাটি মাথাভাঙ্গা থেকে শীতলকুচির দিকে রওনা দিয়েছিল। সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ই-রিকশাটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ধাক্কায় রিকশাচালক ও যাত্রীরা সকলে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ই-রিকশা চালক নজরুল মিয়াঁর। নিহত চালক শীতলকুচি ব্লকের বড় খলিসামারি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় জখম যাত্রীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার জেরে ব্যস্ত ওই রাজ্য সড়কে সাময়িক যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পাওয়া মাত্রই মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ (Mathabhanga Police) এবং দমকলের একটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে রাস্তা পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এরপর পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়। পাশাপাশি, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাক ও ই-রিকশাটিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষ ঘটল—অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা নাকি অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ।

