উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শনিবার ভোররাতে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee home raid) বাসভবনে হানা দিল পুলিশ। জানা গিয়েছে, ভোর ৩টে নাগাদ রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের একটি বিশাল বাহিনী কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহযোগিতায় অভিষেকের বাড়ির সামনে পৌঁছায়। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর বাড়ির তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। সকাল ৮টার পর পুলিশ বাহিনী বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে।
এই ঘটনার খবর পেয়েই সকালেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পুলিশি অভিযানের সময় বাইরে মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। সকাল ৮টার দিকে পুলিশ বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই তৃণমূল নেত্রীকেও এলাকা ত্যাগ করতে দেখা যায়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ‘‘তালা ভেঙে ঢুকে ওরা পুরো বাড়ি সার্চ করেছে। সব রেকর্ড আমার কাছে রয়েছে।’’
সূত্রের খবর, এই অভিযানে শালবনি থানার পুলিশের সঙ্গে ছিলেন মহিলা আধিকারিকরাও। তবে ঠিক কোন মামলার ভিত্তিতে এই আকস্মিক তল্লাশি চালানো হলো, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে একাধিক তদন্তে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডে ভবানী ভবনে টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি। যদিও আদালত তাঁকে সাময়িক রক্ষাকবচ দিয়েছে। এরপর শুক্রবার অন্য একটি সাইবার অপরাধের তদন্তে অভিষেককে নোটিশ দিতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি। আগামী ১৪, ১৫ এবং ১৬ জুন তাঁকে পৃথক পৃথক মামলায় তলব করা হয়েছে।
সিআইডির (CID) পর শনিবার ভোররাতে শালবনি থানার পুলিশের এই অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোর ৩টের কিছু পরেই পুলিশের একাধিক গাড়ি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা অভিষেকের বাড়ির সামনে ভিড় জমায়। দীর্ঘক্ষণ বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকির পর তালা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন আধিকারিকেরা। তল্লাশি শেষে আধিকারিকদের নিজেদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার বিষয়টিও লক্ষ্য করা গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক মামলায় তলব এবং এরপর বাড়ির ভেতর পুলিশি অভিযানের ঘটনা বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতে এক বড় মাপের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
