উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের নবগঠিত সরকারের শপথগ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি। শনিবার রাতে খেজুরির নিচকাসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের হিজলি শরিফে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে ৬০টিরও বেশি দোকান জ্বালিয়ে দিয়েছে।
রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিষেক লেখেন, “ভয়কে তাড়ানোর রাজনীতি কি এভাবেই চলবে? বাংলা জ্বালিয়ে দিয়ে?” তাঁর অভিযোগ, এই হামলায় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের জীবিকা ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি যে ‘ভয়ের রাজনীতি’ শেষ করার কথা বলছে, এটা কি তারই নমুনা? মুহূর্তের মধ্যে অসংখ্য সাধারণ মানুষ তাঁদের উপার্জনের পথ হারিয়েছেন বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
Is that this how you propose to drive “Bhoi” out? By setting Bengal on hearth?
What unfolded in Khejuri’s Nichkasba GP, Hijli Sharif is nothing in need of barbaric.
Over 60 outlets had been torched by BJP-backed miscreants, destroying the livelihoods of harmless folks in a single day. Hindu-owned… pic.twitter.com/k9xHsjDtHa
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) May 10, 2026
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ নয়, বরং বাংলার দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর এক পরিকল্পিত আঘাত। তিনি লেখেন, “এটাই বিজেপির রাজনীতির আসল চেহারা—ঘৃণা, ভয় দেখানো এবং ধ্বংসের রাজনীতি। বাংলা কখনও এই হিংসার সামনে মাথা নত করবে না।” এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব বারবার দাবি করেছেন যে তারা কোনও প্রকার হিংসা বরদাস্ত করবেন না। তবে খেজুরির এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। আগুন কীভাবে লাগল, তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।
শনিবারই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বিরোধী শিবিরের এই শীর্ষ নেতার আক্রমণাত্মক পোস্ট রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ফের উত্তপ্ত করে তুলেছে।
