উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারের আনা নতুন বিলকে সমর্থন করলেও, বিগত এক দশকে দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় লাগাতার ব্যর্থতার অভিযোগে কেন্দ্রকে চরম আক্রমণ শানালেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকার নিজেই আগুন লাগিয়েছে। এখন এক বালতি জল নিয়ে আসার জন্য আমরা তাদের বাহবা দিতে পারি না।” অভিষেকের পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।
সোমবার লোকসভায় পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। মঙ্গলবার সেই বিলের ওপর আলোচনা শুরু হলে বিরোধী দলের সাংসদরা একবাক্যে বিলটিকে সমর্থন করলেও সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
আলোচনার শুরুতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন যে তাঁরা এই বিলকে সমর্থন করছেন। তবে একই সঙ্গে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার যেন এটা না ভেবে বসে, যারা আগুন লাগিয়েছে, পরে তারা এক বালতি জল নিয়ে এলে আমরা তাদের বাহবা দেব।” তাঁর সাফ দাবি, এই নতুন বিল আসলে গত এক দশকের কেন্দ্রীয় সরকারের চরম ব্যর্থতারই এক বড়ো স্বীকারোক্তি।
২০১৪ সাল থেকে শুরু করে নিট (NEET), ইউজিসি-নেট (UGC-NET), এসএসসি (SSC)-সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও আজ পর্যন্ত কোনো মূল অভিযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাননি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, “এই সরকার একটা শিল্পে পারদর্শী হয়ে উঠেছে—যখনই এরা ব্যর্থ হয়, তখনই আইন বদলে দেয়। শাস্তির মাত্রা বাড়ালেই গত ১২ বছরের ব্যর্থতা মুছে যাবে না।” এনডিএ ও বিজেপি সরকার দেশের মেধাবী যুবকদের মর্যাদা রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওদের রিপোর্ট কার্ডের পাশে বড় করে লেখা থাকবে F, অর্থাৎ ফেল!”
অভিষেকের সুরেই এদিন কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো তথা কনৌজের সাংসদ অখিলেশ যাদব। ছাত্র আন্দোলনের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “একজন প্রধানকে সরিয়ে আপনারা আসলে প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন।” অখিলেশের দাবি, সরকার যখনই কোণঠাসা হয় এবং ভয় পায়, তখনই মানুষের ও ছাত্রসমাজের জোরালো দাবির কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। বিজেপি সরকার আসার পর থেকে শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে গৈরিকীকরণের চেষ্টা চলেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করে কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও প্রশ্নফাঁস রোধ নিয়ে গম্ভীর আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেই পথে না হেঁটে ইনস্টাগ্রাম রিলস এবং প্রচারে বেশি মন দিয়েছেন বলে কটাক্ষ করেন তিনি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর তাঁকে বিজেপির সংবর্ধনা দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন গগৈ।

