‘সার্ভার ডাউন’ কথাটি প্রায় শোনা যায়। তবে কেন ডাউন, কীভাবে ডাউন, বা কী বিশেষ যত্নআত্তি করলে সার্ভারের পুষ্টিসাধন হবে, জানে কি কেউ?
আপনার মঙ্গল বক্রী। এবং সে-কারণে আপনি নানা আপদে ও আবর্তে বিভ্রান্ত এবং বিপর্যস্ত। কিন্তু এমতাবস্থায় আপনার তেমন কিছু করার নেই। একদিন এ অবস্থা কাটবে- উদ্বিগ্ন অপেক্ষার মধ্যে- এই বিশ্বাসে দিন কাটাতে আপনি বাধ্য। যদিও আমাদের কারওরই স্পষ্ট ধারণা নেই, মঙ্গলের বক্রী বা রাহুর চক্রী হওয়ার ব্যাপারটা ঠিক কী? আধুনিক কালের ‘সার্ভার ডাউন’ ব্যাপারটা প্রায় একইরকমের। সার্ভার কেন ডাউন, কীভাবে ডাউন, এবং এই সার্ভার বস্তুটি ঠিক কেমন দেখতে-শুনতে, কেমন তার চরিত্র, মেজাজ, তাকে কী খাওয়ালে-পরালে, বা কেমন যত্নআত্তি করলে পুষ্টিসাধন হয়, সে ঘন-ঘন কেনই-বা ‘ডাউন’ হয়ে যায়, এসব নিগূঢ় তথ্য আমরা জানি না।
আরও পড়ুন:
অথচ সভ্যতা যত এগচ্ছে, তত আমরা এই ঈশ্বরসম অস্পষ্ট এবং সর্বভূতে বিরাজমান সার্ভার বস্তুটির সঙ্গে ঘর করতে বাধ্য হচ্ছি। এই ঝক্কি অবিশ্যি আগেও ছিল, যখন সার্ভারের নামগন্ধ আমরা জানতাম না। তখন হাতের বাইরে থাকা, নিয়তিনির্ধারিত কোনওরকম অপারগ অবস্থাকে বলা হত ‘মিটার ডাউন’। গিন্নির মেজাজ থেকে গৃহসহায়িকার ডিউটি কামাই থেকে টেলিফোনের লাইন না পাওয়া, সর্বভূতে আমরা এককালে দেখেছি মিটার ডাউনের অবিরল বিরাজমানতা।
পুজোর মাসে বেতন না পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। সার্ভার ডাউন থাকায় বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়াও সম্ভব হয়নি।
ইদানীংয়ের ‘সার্ভার ডাউন’ আরও প্রসারী, গভীর, জটিল ও রহস্যময়। সার্ভার ডাউন অসুখে ঘন-ঘন আক্রান্ত হতে দেখা যায় এটিএম মেশিনগুলিকে। মনে হয়, এই মেশিনগুলিতে সার্ভার ডাউন ব্যাধির প্রাদুর্ভাবের কারণ তাদের সিস্টেমের মধ্যে এই সংক্রামের বিরুদ্ধে ইমিউনিটির অভাব। আবার, ‘সার্ভার ডাউন’ অসুখ আধুনিক সমাজে এখন শুধু মেশিনে আটকে নেই। মানুষের শরীর ও সম্পর্কের বিচিত্র অপারগতা বা সাড়া জাগার অভাবকেও হালে অবলীলায় বলা হচ্ছে ‘সার্ভার ডাউন’। ব্যর্থ প্রেমের সম্পর্কেও বলা হয় ‘সার্ভার ডাউন’।
সম্পর্কের ‘সার্ভার ডাউন’ তো আসলে মনের সার্ভার ডাউন। একবার ডাউন হলে আর আপ হয় না। প্রতিদিন ছিন্নভিন্ন সর্ম্পকের শোচনীয় পরিণতি চারপাশে আমরা দেখছি। সবই এই দু’টি শব্দের মধ্যে আবদ্ধ। মোদ্দা কথা, কোনও একটা দিক থেকে সার্ভিস লাইন উড়ে গিয়েছে। সেই ছেঁড়া তার জোড়া লাগে না আর। পুজোর এত কাছাকাছি সময়ে দু’-সপ্তাহ ধরে ডাউনে কলকাতা পুরসভার সেন্ট্রাল সার্ভার, এবং সে-কারণে বন্ধ পুরসভার নিত্যদিনের লেনদেন। পুজোর মাসে বেতন না পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। সার্ভার ডাউন থাকায় বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়াও সম্ভব হয়নি।
সাধারণ মানুষ শুধু অবস্থার অসহায় শিকার। সার্ভার ডাউন রহস্যের পাতালছায়া সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। উদ্বিগ্ন অপেক্ষা, আর ক্রমিক টেনশন- এছাড়া কি এই মুহূর্তে ৩২ হাজার পুরকর্মীদের কিছু দেওয়ার আছে আমাদের? কোনও পজিটিভ প্রতিশ্রুতি? সার্ভার যাতে চট করে চাঙ্গা হয় ও আমাদের উদ্বোধিত করে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
