দুর্গাপুজোর অস্ত্র মিছিল। হাতে তরোয়াল, বল্লম, দাঁ। অথচ সেই মিছিল ঘিরে আতঙ্কের বদলে মানুষের চোখেমুখে কৌতূহল আর উচ্ছ্বাস। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে কয়েক হাজার মানুষ দেখছেন সেই দৃশ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এ ভাবেই অষ্টমীর সন্ধিপুজোর পর অস্ত্র হাতে জয়োল্লাসে মেতে ওঠেন দুবরাজপুরের মানুষ। নাম ‘জয়তারা’। সময় বদলেছে, বদলেছে শহরের চেহারা। কিন্তু শতাব্দীপ্রাচীন এই ঐতিহ্যে আজও ছেদ পড়েনি।
দুবরাজপুর শহরের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ থেকে অষ্টমীর বলিদান পর্ব শেষ হতেই বেরিয়ে পড়ে জয়তারার শোভাযাত্রা। কিশোর থেকে যুবক, নানা বয়সের মানুষ হাতে প্রাচীন অস্ত্র নিয়ে শহর পরিক্রমায় শামিল হন। একাধিক জয়তারা পরিক্রমা করে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ। শহরের ৫০টিরও বেশি দুর্গাপুজোর মধ্যে একাধিক পুজোকে ঘিরে এই উৎসবের আয়োজন হয়। জয়তারা দেখতে ভিড় জমান দূরদূরান্তের মানুষও।
আরও পড়ুন:
মুখার্জিপাড়ার বাসিন্দা বাবন মুখার্জির কথায়, প্রায় ৪০০ বছর ধরে এই উৎসব চলে আসছে বলে জনশ্রুতি। ছোটবেলা থেকে তিনি এই রীতি দেখে আসছেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের সময়েও এই উৎসবের প্রচলন ছিল। লোকবিশ্বাস, দেবতা ও অসুরের যুদ্ধে অশুভ শক্তির পরাজয়ের পর দেবতারা যে জয়োল্লাস করেছিলেন, জয়তারা তারই প্রতীক। অশুভের বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার বার্তাই বহন করে এই উৎসব।
অস্ত্র হাতে মিছিল হলেও তা স্থানীয়দের কাছে ভয় নয়, বরং বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের উদ্যাপন। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে এ দিন প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করে দুবরাজপুর থানার পুলিশ। নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এ ভাবেই বেঁচে রয়েছে দুবরাজপুরের নিজস্ব উৎসব ‘জয়তারা’।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
