কিশনগঞ্জ: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকাকে দীর্ঘ তিন বছর ধরে লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নাবালিকা গর্ভবতী হয়ে পড়লে জোর করে গর্ভপাত করানোর অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিহারের কিশনগঞ্জ জেলার (Kishanganj) ঠাকুরগঞ্জ থানা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সমস্ত দিক বিচার করে শনিবার সন্ধ্যায় কিশনগঞ্জ মহিলা থানায় পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত যুবক পলাতক।
জানা গিয়েছে, কিশনগঞ্জের ঠাকুরগঞ্জ থানার পটেশ্রী গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ আমন (২৩) নামের ওই যুবক প্রতিবেশী এক নাবালিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরবর্তীতে নাবালিকা বারবার বিয়ের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত যুবক তা এড়িয়ে যেতে শুরু করে। এরই মধ্যে ওই কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়লে অভিযুক্ত জোর করে তার গর্ভপাত করায় বলে অভিযোগ। এরপর ওই নাবালিকা যুবকের বাড়িতে বিয়ের দাবি নিয়ে গেলে তাঁর পরিবারের লোকজন তাঁকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় স্তরে এই নিয়ে একাধিকবার সালিশি সভা বসলেও কোনো সুরাহা হয়নি। নিরুপায় হয়ে অবশেষে শনিবার সন্ধ্যায় নাবালিকার অভিভাবকরা কিশনগঞ্জ মহিলা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি, নির্যাতিতার পরিবার জেলা পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমারের সঙ্গে দেখা করে সমস্ত ঘটনা জানান। পুলিশ সুপার তাদের সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
মহিলা থানার পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইন এবং অন্যান্য কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে। শনিবার রাতেই অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়, তবে সে আগেই চম্পট দিয়েছে। বর্তমানে পলাতক যুবকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। নাবালিকার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।

