স্মৃতির সরণি বেয়েই উদযাপনে মাতবে হল্যান্ডের এই পুজো! উৎসবের পাঁচদিনের ভূরিভোজে পাঁচ যুগের স্বাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


বাঙালি পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন, খুঁজে নেয় দুর্গা পুজো করবার নিজস্ব পরিসর। প্রবাসের মাটিতে বাঙালিয়ানায় ভরপুর এমনই এক উৎসব আঙিনার নাম ‘হল্যান্ড-এ-হৈচৈ’। ২০১৭-এ তাঁদের পথচলা শুরু হয়েছিল। আজ দশ বছর পার করেছে এই পুজো। প্রতি বছরের মতো এই বছরেও জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গা পুজোর আয়োজন হয়েছে সেখানে (Durga Puja 2026)।

নির্ঘণ্ট মেনে ১৬ অক্টোবর মহাপঞ্চমী পালনের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে উদযাপন। এরপর ২০ অক্টোবর মহানবমী-বিজয়া দশমীতে সম্পন্ন হবে পাঁচচালা প্রতিমার এই পুজো। উৎসবকে আরও রঙিন করে তুলতে এই বছর সেখানে উপস্থিত থাকছেন দুই বিশেষ অতিথি— গানে গানে উৎসবের সন্ধ্যা মাতানোর দায়িত্বে রয়েছে বাংলা ব্যান্ড ‘লক্ষ্মীছাড়া’। অন্যদিকে হাসির রসদ জোগাবেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান ‘বং শর্ট’। প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রবাসী শিল্পীদের নাচ-গান-নাটকেও জমে উঠবে আসর।

আরও পড়ুন:

Durga Puja 2026: A Netherlands Puja Celebrates a Decade of Memories

বাঙালির পুজো মানেই পেটপুজো! তাই এই বছর খাওয়াদাওয়ার আয়োজনেও থাকছে নতুনত্ব। পুজোর পাঁচ দিনের মেনুতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বাংলার পাঁচ যুগের স্বাদ! যেমন, পাল-সেন আমলের দরবারি ইলিশ, সুলতানি জমানার কষা মাংস, নবাবি কায়দায় রাঁধা বাগদা চিংড়ি, ইংরেজ আমলের ভোগের খিচুড়ি ও কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের কেবিনের চিরচেনা ফিশ ফ্রাই।

এখানেই শেষ নয়। পুজো ঘিরে জমে উঠবে মেলা। খাবার, পোশাক, গয়না, শারদীয়া সংখ্যা ও বইয়ের স্টল থাকবে সেখানে, এমন আয়োজন যে প্রবাসীদের আড্ডা জমিয়ে তুলতে যথেষ্ট, তা বুঝি আর বলে দিতে লাগবে না।

দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে হৈচৈ-এর মণ্ডপসজ্জায় এবারের থিম ‘ডাউন দ্য মেমোরি লেন’। প্রতিমা দর্শন করতে যে পথ ধরে যাবেন দর্শনার্থীরা, সেই পথ জুড়ে থাকবে গত এক দশকের পুজোর বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি, যা এক নজরে তুলে ধরবে হৈচৈ পরিবারের দীর্ঘ পথচলা।

এই উদযাপনে ব্রাত্য নয় প্রযুক্তিও। এ বছর চালু হয়েছে হৈচৈ দুর্গাপূজার নিজস্ব অ্যাপ, যা অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস—দুই প্ল্যাটফর্মেই উপলব্ধ থাকবে। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও অ্যাপে যুক্ত হয়েছে চ্যাটবট, যা প্রবাসীদের জন্য পুজো সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানা ও যোগাযোগ রাখার কাজ সহজ করে তুলবে।

কেবল আরাধনা নয়, এই পুজো আদতে নেদারল্যান্ডস জুড়ে ইতস্তত ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের একত্রিত করার এক উপলক্ষ মাত্র। এখানে ভক্তি ও সংস্কৃতি, খাবার ও গপ্পগুজবের এক অভাবনীয় মেলবন্ধন ঘটে। তৈরি হয় আজীবনের বন্ধুত্বের পরিসর। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রবেশ অবাধ এই পুজো মণ্ডপে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *