ভোটকোশীতে চোখের সামনে মৃত্যু! চালকের বুদ্ধিতে বেঁচে বাড়ি ফিরলেন সিউড়ির সন্দীপরা

রাজ্য/STATE
Spread the love


মানস সরোবর যাওয়ার পথে নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রত্যক্ষদর্শী হলেন বীরভূমের দুই পর্যটক। আচমকা পাহাড়ি ঢাল বেয়ে ধেয়ে আসা জল ও ধ্বংসস্তূপের হাত থেকে বাস চালকের তৎপরতায় কোনওরকমে রক্ষা পেলেন সিউড়ির জোড়াশিবতলার সন্দীপ দেব এবং আমোদপুরের চৌরঙ্গীপাড়ার টোটন লাহা। মৃত্যুর একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার সেই অভিজ্ঞতা এখনও তাঁদের আতঙ্কিত করে তুলছে। দুই পর্যটকের কথায় জানা গিয়েছে, মোট ৫২ জনের একটি দল নিয়ে গত ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে মিথিলা এক্সপ্রেসে তাঁরা কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা করেন। একটি পর্যটন সংস্থার ব্যবস্থাপনায় তাঁদের মানস সরোবর দর্শনের পরিকল্পনা ছিল। পরদিন সন্ধ্যায় কাঠমান্ডু পৌঁছন তাঁরা। তিব্বতে যাওয়ার প্রয়োজনীয় ভিসা হাতে আসে ২৫ আগস্ট রাতে। পরদিন ভোরেই শুরু হয় তাঁদের মূল যাত্রা।

সন্দীপ জানান, তাঁদের দলের গাইড এবং রাঁধুনিরা একটি আলাদা গাড়িতে ছিলেন। তাঁরা ভোটকোশী নদীর সেতুটি পার হয়ে আগেই এগিয়ে যান। তাঁদের বাস তখনও সেতু থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পিছনে।

আরও পড়ুন:

কাঠমান্ডু থেকে বাসে করে এগিয়ে নুয়াকট জেলার বিদুর শহরের কাছে পৌঁছতেই পরিস্থিতি আচমকা বদলে যায়। চারদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। পাহাড়ের দিক থেকে ধুলো কিংবা কুয়াশার মতো দেখতে কিছু একটা দ্রুত নীচের দিকে নেমে আসতে দেখেন টোটন। একই সঙ্গে শোনা যাচ্ছিল প্রবল গর্জন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে বাসচালক আর সময় নষ্ট করেননি। দ্রুত বাস ঘুরিয়ে অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গার দিকে নিয়ে যান তিনি। সন্দীপ জানান, তাঁদের দলের গাইড এবং রাঁধুনিরা একটি আলাদা গাড়িতে ছিলেন। তাঁরা ভোটকোশী নদীর সেতুটি পার হয়ে আগেই এগিয়ে যান। তাঁদের বাস তখনও সেতু থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পিছনে। নদীর স্রোত ছিল বাসের ডান দিকে। চালক বাসটিকে বাঁ দিকের পাহাড়ি রাস্তা ধরে ক্রমশ উঁচুতে তুলে নিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই নদীর জল ভয়ঙ্কর গতিতে নীচের দিকে আছড়ে পড়তে শুরু করে। 

পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, ভোটকোশীর উপর থাকা সেতুটি প্রবল জলের ধাক্কায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আশপাশের একাধিক বাড়িও ক্ষতির মুখে পড়ে। বাস যেখানে প্রথমে থামানো হয়েছিল, সেখানেও ধসের আশঙ্কা থাকায় স্থানীয়রা সতর্ক করেন। এরপর নিরাপদ থাকার জন্য বাসটি আরও উঁচু এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

সন্দীপের কথায়, একদিন আগে ভিসা পেলে হয়তো এই ভয়াবহ ঘটনার মধ্যে পড়তে হত। ঈশ্বরের কৃপা এবং চালকের সময়োচিত সিদ্ধান্তেই তাঁরা বেঁচে গিয়েছেন বলে মনে করেন তিনি। টোটনের কথায়, চোখের সামনে পাহাড় থেকে জল নেমে আসার দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে শত শত মানুষের প্রাণহানির খবরের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসাকে নতুন জীবন পাওয়ার সঙ্গেই তুলনা করছেন বীরভূমের এই দুই পর্যটক।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *