মুখস্তবিদ্যা নয়, নিজস্ব ভাবনাতেই আসল শিক্ষা! যাদবপুরের ভাইরাল প্রশ্ন বোঝাল যোগ্যতার মাপকাঠি

মুখস্তবিদ্যা নয়, নিজস্ব ভাবনাতেই আসল শিক্ষা! যাদবপুরের ভাইরাল প্রশ্ন বোঝাল যোগ্যতার মাপকাঠি

রাজ্য/STATE
Spread the love


পছন্দের শক্তিশালী নারী চরিত্র হোক কিংবা পথের পাঁচালীর দুর্গার সঙ্গে রেলসফরে কাল্পনিক কথোপকথন। লালমোহন বাবুর সঙ্গে তাঁর পছন্দের কবি বৈকুণ্ঠ মল্লিকের আলাপচারিতা কিংবা বাঙালির চিরাচরিত উত্তম বনাম সৌমিত্রের লড়াই। প্রশ্ন অথচ ঠিক প্রশ্ন নয়। পড়ুয়াদের মৌলিক ভাবনা বিস্তারের রাস্তা প্রশস্ত করা। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরে বাংলা প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে তারই প্রতিফলন। সেই প্রশ্নই এখন ভাইরাল। ঘুরছে সকলের টাইমলাইনে। আর তা নিয়ে চর্চাও তুঙ্গে। কারও মতে, এ প্রশ্ন বড়ই কঠিন। কেউ বা বলছেন, মুখস্তবিদ্যায় ভরসা করলেই প্রশ্ন কঠিন, নচেৎ আপন অন্তরের ভাবপ্রকাশে এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো বড় সুযোগ আর হয় না। তবে এই একটি প্রশ্নপত্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আবারও প্রমাণ করে দিল, কেন নানা বিতর্কে জড়ানো সত্ত্বেও শিক্ষার মানদণ্ডে দেশের অন্যতম সেরার তকমা ধরে রেখেছে তারা।

২৫ নম্বরের প্রশ্নের মধ্যে অন্যতম – ‘তোমার ছোটবেলার ইচ্ছেগুলো, খামখেয়ালগুলো’, ‘যে জঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে তার পাখিদের কথোপকথন’, ‘যে বইটি তোমার প্রিয়জনকে উপহার দিতে চাও’, ‘সাহিত্যিকের আড্ডা: বৈকুণ্ঠ মল্লিক, লালমোহন গাঙ্গুলি, সত্যজিৎ রায়’, ‘ঈশ্বরকে গুটিকয় প্রশ্ন করার সুযোগ’। এ তো সিলেবাস নয়, আবার সিলেবাসের বাইরে বলেও দাগিয়ে দেওয়া যাবে না। এ তো আমাদের নিত্যদিনের দেখাশোনা, ভাবনাচিন্তারই বিস্তৃত জগৎ। পরীক্ষা দিতে গিয়ে এহেন বৈচিত্র্যময় প্রশ্ন কোথায়ই বা পাওয়া যায়?

আরও পড়ুন:

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা স্নাতকের প্রবেশিকা পরীক্ষার ভাইরাল প্রশ্নপত্র

সদ্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি বছরের স্নাতক স্তরের বাংলা বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষার একটি প্রশ্নপত্র ভাইরাল হয়েছে। আর সেটাই মানুষের নজর কেড়েছে। ২৫ নম্বরের প্রশ্নের মধ্যে অন্যতম – ‘তোমার ছোটবেলার ইচ্ছেগুলো, খামখেয়ালগুলো’, ‘যে জঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে তার পাখিদের কথোপকথন’, ‘যে বইটি তোমার প্রিয়জনকে উপহার দিতে চাও’, ‘সাহিত্যিকের আড্ডা: বৈকুণ্ঠ মল্লিক, লালমোহন গাঙ্গুলি, সত্যজিৎ রায়’, ‘ঈশ্বরকে গুটিকয় প্রশ্ন করার সুযোগ’। এ তো সিলেবাস নয়, আবার সিলেবাসের বাইরে বলেও দাগিয়ে দেওয়া যাবে না। এ তো আমাদের নিত্যদিনের দেখাশোনা, ভাবনাচিন্তারই বিস্তৃত জগৎ। পরীক্ষা দিতে গিয়ে এহেন বৈচিত্র্যময় প্রশ্ন কোথায়ই বা পাওয়া যায়? আসলে সদ্য কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা দেওয়া, স্কুল পেরিয়ে কলেজের গণ্ডিতে ঢোকার অদম্য আকর্ষণঘেরা পড়ুয়া মন ঠিক কী কী কল্পনা করতে পারে, তা যাচাই করার প্রয়াসই রয়েছে সেই প্রশ্নপত্রে। আর তা পছন্দ হয়েছে পড়ুয়া, শিক্ষাবিদ থেকে সাধারণ মানুষেরও।

যাঁরা এমন প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বাংলা বিভাগের অধ্যাপকরা জানিয়েছেন, পড়ুয়ারা যখন পড়াশোনা করতে আসে তখন তারা সব জেনে আসবে, এমনটা তাঁরা মোটেই আশা করেন না। তবে স্বাধীন ভাবনাচিন্তা এবং তা প্রকাশ করার ক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটাই যাচাই করতে চান শিক্ষকরা। সেই মৌলিক চিন্তার জোর থাকলেই তাঁরা শিখিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করেন। কোনও চাপ নয়, নয় নোট মুখস্ত করে লেখার চিরাচরিত অভ্যাস। গোটা বাংলার প্রত্যেক পড়ুয়াই যাতে মনের কথা পরীক্ষার খাতায় সহজে লিখতে পারে, সেটাই লক্ষ্য যাদবপুরের শিক্ষকদের। এই মুক্ত মনন যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি পছন্দ হয়েছে বাংলার সাধারণ মানুষের। আর তাই ভাইরাল যাদবপুরের প্রবেশিকা পরীক্ষার ওই প্রশ্নপত্র। শিক্ষা তো এমনই হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *