বঙ্গের পদ্মকথা

বঙ্গের পদ্মকথা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


পশ্চিমবঙ্গের জমি আন্দোলনের ইতিহাসে সিঙ্গুর এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ২০০৬ সালে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের জেরে টাটাদের ন্যানো কারখানা সিঙ্গুর থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় গুজরাটের সানন্দে। শিল্পপতি রতন টাটা বাংলা ছাড়ার আগে মহাকরণে দাঁড়িয়ে নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘বলেছিলাম, মাথায় বন্দুক ঠেকালেও সিঙ্গুর ছেড়ে যাব না। কিন্তু আপনি ট্রিগারটাই টিপে দিলেন।’

সিঙ্গুরে সেই টাটাদের কারখানার পরিত্যক্ত মাঠে গত ১৮ জানুয়ারি সভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগের দিন প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ ছিল উত্তরবঙ্গের মালদায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোদির আরও একটি সভার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গে হুগলির সিঙ্গুরকে।‌ স্বভাবতই প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় শিল্পায়ন, কলকারখানা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি অনেক কিছুর বার্তার প্রত্যাশা ছিল সিঙ্গুরবাসীর।

জনসমাগম ভালোই হয়েছিল।‌ কিন্তু মোদির ভাষণজুড়ে থাকল অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ। শিল্প, কর্মসংস্থান নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করলেন না প্রধানমন্ত্রী।‌ তাতে সিঙ্গুর তথা হুগলি তথা রাজ্যের মানুষ চূড়ান্ত হতাশ। রাজ্য বিজেপির সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা বুঝে উঠতে পারছেন না, এত ঢাকঢোল পিটিয়ে, এত প্রচার করে প্রধানমন্ত্রীর সভার আয়োজন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় তাঁর মূল্যবান সময় দিচ্ছেন, অথচ কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না কেন!

কিছুদিন আগে ঘন কুয়াশার কারণে নদিয়ার হাকিমপুরে তাঁর কপ্টার নামতে না পারায় দমদম বিমানবন্দর থেকে ভার্চুয়াল সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে মোদির নীরবতা মতুয়াদের হতাশ করেছিল। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের তিন মাস আগে খোদ প্রধানমন্ত্রীর এই রহস্যময় নীরবতার কারণ নিয়ে তাই জল্পনার শেষ নেই।

মতুয়াগড়ের সভায় মতুয়াদের সমস্যার সমাধান দূরের কথা, নামগন্ধই করলেন না তিনি। আবার কুড়ি বছর ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যে সিঙ্গুর, মোদিজি সেখানে গিয়ে ভাষণ দিলেন বটে, কিন্তু শিল্পোন্নয়ন, বেকার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থান ইত্যাদি প্রসঙ্গ মুখেই আনলেন না। রাস্তাঘাটে হামেশা মোদি-মমতা সেটিং তত্ত্বের কথা শোনা যায়। বিভিন্ন সভায় প্রধানমন্ত্রীর মূল সমস্যা থেকে দূরে থাকা তাই চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে এখন।

ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হবে বলে অনুমান করা যায়। এই পরিস্থিতিতে একদিকে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ যাবে বলে আগাম ঘোষণায় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উল্লাস, অন্যদিকে এসআইআর হয়রানি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মামলায় তৃণমূলের বড় জয় বহুচর্চিত দুটি বিষয়।

সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের দুটি দাবিকেই মান্যতা দিয়েছে। এক) মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকে স্বীকৃত নথি হিসেবে মানতে হবে নির্বাচন কমিশনকে, দুই) তথ্যগত অসংগতির জন্য যাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তাঁদের পুরো তালিকা প্রকাশ করতে হবে। বাস্তবে এসআইআর-এ মানুষের হয়রানি বিজেপিকে কোণঠাসা করে দিচ্ছে। অন্যদিকে, আইপ্যাক নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী চরম অস্বস্তিতে।

রাজ্য বিজেপি অবশ্য তার ফায়দা তোলার তেমন কোনও চেষ্টা করছে না। দলে গোষ্ঠীকোন্দলও কম নয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা কলকাতায় এসে প্রাক্তন ও সবচেয়ে সফল রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বৈঠক করার পর মনে করা হচ্ছিল, বঙ্গ বিজেপিতে অন্তর্দ্বন্দ্ব আর নেই। কিন্তু ভুল ভাবা হয়েছিল। কারণ, সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যসভার সাংসদ ও বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার আমন্ত্রণ পেলেও দিলীপ ব্রাত্যই ছিলেন।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলা নিয়ে বিশেষ আশাবাদী নয়। দু’দিন আগে কেরল দখলে প্রধানমন্ত্রীকে যতটা আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে ততটা আশাবাদী মনে হয়নি।

The submit বঙ্গের পদ্মকথা appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *