Odisha | দিদির ২০ হাজার টাকার জন্য ব্যাঙ্কে ‘কঙ্কাল’ নিয়ে হাজির ভাই! ওড়িশায় চূড়ান্ত অমানবিক দৃশ্য

Odisha | দিদির ২০ হাজার টাকার জন্য ব্যাঙ্কে ‘কঙ্কাল’ নিয়ে হাজির ভাই! ওড়িশায় চূড়ান্ত অমানবিক দৃশ্য

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


Uploaded By: Anupam Bagchi

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ডিজিটাল ইন্ডিয়ার চাকচিক্যের ভিড়ে চাপা পড়ে থাকা এক অন্ধকার বাস্তব প্রত্যক্ষ করল ওড়িশার (Odisha) কেউনঝড়। অসুস্থ দিদি মারা গিয়েছেন দু’মাস আগে। তাঁর সামান্য জমানো ২০ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাঙ্কের নিয়মের জটিলতার জালে ফেঁসে গিয়েছিলেন নিরক্ষর ভাই। অভিযোগ, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ মৃত দিদিকে সশরীরে হাজির করানোর দাবি জানালে, চরম অভিমানে দিদির কবর খুঁড়ে কঙ্কাল (skeleton) তুলে নিয়ে ব্যাঙ্কেই ঢুকে পড়লেন ভাই।

ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার কেউনঝড় জেলার পাটনা ব্লকের মালিপোসি এলাকায়। ৫০ বছর বয়সি জিতু মুণ্ডা (Jitu Munda) পেশায় একজন দিনমজুর। তাঁর দিদি কালরা মুণ্ডা (৫৬) অসুস্থ হয়ে মারা যান দুই মাস আগে। দিদি গরু বিক্রি করে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমিয়েছিলেন মাত্র ২০ হাজার টাকা। অভাবের সংসারে সেই টাকাটুকুই ছিল জিতুর শেষ ভরসা।

জিতুর অভিযোগ, ‘ওড়িশা গ্রাম্য ব্যাঙ্ক’-এর শাখায় গেলে তাঁকে ডেথ সার্টিফিকেট ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিল নথি জমা দিতে বলা হয়। নিরক্ষর জিতু বারবার বলেন যে, দিদি আর নেই, কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ব্যাঙ্কের কর্মীরা তাঁকে সাফ জানান— “টাকা তুলতে হলে যাঁর অ্যাকাউন্ট তাঁকে নিয়ে আসতেই হবে।”

প্রশাসনিক উদাসীনতা আর ব্যাঙ্কের এই রূঢ় ব্যবহারে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল জিতুর। সোমবার তিনি রাগে আর দুঃখে সোজা দিদির কবরে গিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করেন। দু’মাস আগে সমাহিত করা দিদির কঙ্কালটি একটি কাপড়ে জড়িয়ে তিনি সরাসরি নিয়ে পৌঁছান ব্যাঙ্কের কাউন্টারে। ব্যাঙ্কের ভেতরে হাড়গোড় দেখে উপস্থিত গ্রাহক ও কর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পাটনা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। থানার আইসি কিরণ প্রসাদ সাহুর কথায়, “জিতু একজন সহজ-সরল মানুষ। নমিনি বা আইনি মারপ্যাঁচ তিনি বোঝেন না। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁকে সহজভাবে নিয়ম বুঝিয়ে সাহায্য করলে এই দৃশ্য দেখতে হতো না।” স্থানীয় বিডিও মানস দন্ডপাত জানিয়েছেন, প্রশাসনিক স্তরে এখন দ্রুত জিতুর হাতে টাকা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, কালরা মুণ্ডার অ্যাকাউন্টে যিনি নমিনি ছিলেন, তিনিও আগেই মারা গিয়েছেন। বর্তমানে জিতুই একমাত্র দাবিদার। এই ঘটনা প্রমাণ করল যে, নিয়ম যখন মানুষের প্রয়োজনকে বুঝতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই ব্যবস্থা কতটা নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে পারে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *