নজরে মমতার ক্ষমতা

নজরে মমতার ক্ষমতা

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) (SIR)-র শুনানিপর্বে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত। কোথাও দেখা গিয়েছে, হাঁটার ক্ষমতা নেই, তবুও হামাগুড়ি দিয়ে শুনানিকেন্দ্রে পৌঁছোচ্ছেন প্রৌঢ়। কোথাও ৯৩ বছরের অতিপ্রবীণাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে শুনানির জন্য আনা হয়েছে নির্ধািরত কেন্দ্রে। কখনও নিজেকে প্রকৃত ভোটার প্রমাণে নথিভর্তি বিশাল ট্রাংক মাথায় নিয়ে শুনানিতে হাজির তরুণ।

আবার কোথাও ছেলেমেয়েকে একইদিনে শুনানির নোটিশ পাঠানোর পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাবার মৃত্যু ঘটেছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এরকম মৃতের সংখ্যা। এসআইআর-কে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৪০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করতে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)।

সেই বৈঠক হবে নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়‌ সহ ১৫ জনের দল নিয়ে ওই বৈঠকে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেক অবশ্য এর আগেও একবার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেছেন। সদ্য সদ্য কমিশন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ মিনা সহ ১৫ আইএএস এবং হাওড়ার প্রাক্তন পুলিশ সুপার প্রবীণ ত্রিপাঠী সহ ১০ জন আইপিএস অফিসারকে নির্বাচনি পর্যবেক্ষক হিসেবে অন্য রাজ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গ আলোচনায় তুলবেন বলে ধরে নেওয়াই যায়।

আদতে এসআইআর নিয়ে শুরু থেকেই প্রতিবাদী মমতা।‌ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মধ্যে এসআইআর নিয়ে প্রথম মুখ খুলেছিলেন তিনিই।‌ দিনের পর দিন মানুষের ভোগান্তি বন্ধের দাবিতে জ্ঞানেশ কুমারকে একের পর এক ছ’টি চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সর্বশেষ চিঠিটি ৩১ জানুয়ারি পাঠানো। চিঠিতে মাইক্রো অবজার্ভার, রোল অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে ওই চিঠিতে।

এসআইআর নিয়ে মমতা ও জ্ঞানেশ কুমারের আলোচনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল এখন। নয়াদিল্লির নির্বাচন সদন চত্বরেও চাপা উত্তেজনা আছে। সেই উত্তেজনা নিরাপত্তা সম্পর্কিত। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর আতঙ্কে মৃতদের পরিবার সেখানে ধর্নায় বসতে পারে। তারা দিল্লি পৌঁছেও গিয়েছে কয়েক দিন আগে। প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়ার তারিখ নির্দিষ্ট ছিল ২৮ জানুয়ারি। সেইমতো এসআইআর সম্পর্কিত মৃত‌দের পরিবার দিল্লি পৌঁছোতে শুরু করেছিল।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে যাওয়া কয়েকশো মানুষ এই ক’দিন আছেন বঙ্গ ভবন এবং কয়েকটি হোটেলে। বিশেষ কারণে মমতার দিল্লি যাত্রা পিছোতে হয়। বস্তুত মুখ্যমন্ত্রীকে জ্ঞানেশ কুমারের সময় দেওয়ার খবর ঘোষণা হয় ওই ২৮ তারিখেই। নির্বাচন সদনে নির্ধারিত আলোচনা বৈঠকের একপক্ষ যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাই টানটান উত্তেজনা থাকা স্বাভাবিক।

উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হলে মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের মাঝপথে বেরিয়ে যাবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এসআইআর সম্পর্কিত মৃতদের পরিবারগুলিকে মিছিল করে যন্তরমন্তরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ধর্না মঞ্চ তৈরি হয়েছে। ধর্না-অবস্থান কতক্ষণ চলবে, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকবে কি না- এইসব প্রশ্নও উঠেছে। এসআইআর-কে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় স্তরে, বিশেষত ‘ইন্ডিয়া’ জোটে আরও একবার প্রচারের আলোয় চলে এসেছেন।

যুক্তিগ্রাহ্য অসংগতির তালিকা এবং নো ম্যাপিং-এর ভোটার তালিকা প্রকাশ, কোনও নথি জমা দিলে রসিদ দেওয়া, মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ডকে স্বীকৃত নথি হিসেবে গ্রহণ- শীর্ষ আদালতের এইসব নির্দেশের মূলে রয়েছে তৃণমূলের (TMC) ভূমিকা। তাড়াহুড়ো করে এসআইআর প্রক্রিয়া না চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি মমতা বহুবার তুলেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মুখোমুখি বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারকে কি নিজের সেই যুক্তি বোঝাতে পারবেন মমতা? পারবেন কি মুখ্যমন্ত্রী প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোর জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি আদায় করতে? সেদিকেই তাকিয়ে বাংলা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *